অপহৃত ব্যবসায়ীকে ২৬ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল সাভারে


n_gonzঅপহরণের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের (৩৫) খোঁজ মিলেছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারের নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনের রাস্তায় কে বা কারা তাকে ফেলে রেখে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণকারীরা ধরা পড়ার ভয়ে সাইফুলকে ফেলে রেখে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে অপহৃত হন সাইফুল

নারয়াণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, সাভারের নবীনগর এলাকায় কে বা কারা সাইফুলকে ফেলে যায়। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পেঁৗছানোর আগেই র‌্যাব-৪-এর দলটি সাইফুলকে সাভার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, সাইফুলকে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

থানা পুলিশ জানায়, রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারের নবীনগরের স্মৃতিসৌধের বিপরীত দিকে বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে সাইফুলকে ফেলে চলে যায় অপহরণকারীরা।

সাইফুল পুলিশকে বলেছেন, অপহরণের পর তাকে সারাদিন চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে ঘোরানো হয়। এরপর তাকে এক জায়গায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা। তিনি এ সময় স্থানীয় লোকজনকে তার পরিচয় ও অবস্থার কথা জানান।এর আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ সাইফুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। ২২ দিন আগে অপহৃত হয়েছিলেন সাইফুলের ভায়রা পরিবহন ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের (৩৫) অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সানারপাড়ের স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও স্বজনরা গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করে সাইফুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। সে সময় পার হওয়ার পর আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রথম দফার বিক্ষোভে পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নামতেই পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা করে। পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গের পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ। যদিও গত বুধবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান আতঙ্কিত মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে আর গুম হবে না। শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার এমন আশ্বাসের একদিন না যেতেই আবারও ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কটা নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে আরও বেড়ে যায়। অপহরণ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, সানারপাড় কলেজ রোডে সাইফুল ইসলামের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি লামিয়া সুপারস্টোর ও অন্যটি সামিয়া রাইস এজেন্সি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি সুপারস্টোর থেকে বের হন। ৯টা থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পরই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। রাত সোয়া ২টার দিকে সুপারস্টোরের ম্যানেজার হান্নানের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। বলা হয়, ‘১০ লাখ টাকা দে, নইলে লাশ পাবি।’ কোথায়, কার কাছে টাকা দিতে হবে, তা না বলেই ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাইফুলের স্ত্রী আফরিন সুলতানা সমকালকে বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাইফুল তার মোবাইলে ফোন দেন। বাসায় না ফিরে তিনি জানান, সানারপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স’মিলের মালিক ফিরোজের কাছে তিনি এক লাখ টাকা পাবেন। সেই টাকা নিতে তার কাছে যেতে হবে। রাত ১০টায় বাসায় না ফেরায় তার খোঁজ শুরু হয়। ওই রাতেই খোঁজ নিতে ফিরোজের কাছে গেলে তিনি জানিয়েছেন, ফোনে কথা হয়েছে। কয়েক দিন পর টাকা দেওয়ার কথা বললে রাতে সাইফুল তার কাছে যাননি।

স্ত্রী আফরিন বলেন, তার স্বামী তো কোনো রাজনীতি করেন না। শুধু ব্যবসা করেন। তাকে অপহরণ করা হলো কেন? তিনি স্বামীকে ফেরত চান। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমারে বিধবা বানাইয়েন না, আমার শিশুসন্তানদের এতিম কইরেন না।’

আফরিন জানান, গত ৯ এপ্রিল ঢাকার আদালত এলাকা থেকে তার বোনের স্বামী রহমত উল্লাহকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।সাইফুলের বড় বোন মোসাম্মৎ মহুয়া সমকালকে বলেন, ‘তার ভাইকে অপহরণ করা হলে তো অপহরণকারীরা তার স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ চাইবে। তা না করে ম্যানেজার হান্নানের কাছে ১০ লাখ টাকা চাইল কেন? অপহরণকারীরা তো কোনো ঠিকানাও দিল না। ঠিকানা দিলে সব বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ভাইকে মুক্ত করে আনতাম।’

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া  জানান, যেখান থেকে অপহরণের কথা বলা হচ্ছে, ওই এলাকায় রাতে পুলিশের ডিউটি ছিল। এ ধরনের ঘটনা পুলিশের চোখে পড়েনি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে।নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মুহিদ উদ্দিন সমকালকে বলেন, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অপহরণের ঘটনা তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তাকে উদ্ধারে আমরা আশাবাদী। ওই ঘটনায় তার দোকানের দুই ম্যানেজার ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাইফুলের ম্যানেজার হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

(162)