আগে আমাকে বাংলাদেশে পাঠান, মোদিকে মমতা


 

modi_morningsunbdবাংলাদেশ ইস্যুতে মোদি-মমতার দ্বৈরথে ফের সরগরম হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতির অঙ্গন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে সোমবার ফেসবুকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, মোদি যদি বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠাতে চান তার সর্বাগ্রে আমাকেই ফেরত পাঠানো উচিত। মমতার অভিযোগ, মোদি বাংলায় এসে জাতিদাঙ্গা ছড়াচ্ছেন। তিনি মোদির উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশী তাড়ানোর তুই কে? তুই কোন হরিদাস?’

মমতা বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আগে আমাকে বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে বাংলাদেশে তাড়ান। তার পর বাংলার মা-বোনেদের গায়ে হাত দেবেন। টাচ মি, ইফ ইউ ক্যান। একটা লোককে তাড়ানোর সাহস নেই, বাঙালি তাড়াতে এসেছেন।’

গত ২৭ এপ্রিল নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে এক নির্বাচনী সভায়  বলেছিলেন, ‘১৯৪৭ সালের পর যারা বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন, তারা বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে তৈরি থাকুন। ১৬ মে’র পর সবাইকে ফেরত পাঠাব। ওই সভার পর মোদির ভাষণ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে অবশ্য রাজ্য বিজেপি মোদির ভাষণের ব্যাখ্যা দিয়ে বলে, তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কথা বলেছেন, শরণার্থীদের নয়। এই ইস্যুতে সিপিএম-ও মোদির সমালোচনা শুরু করেছে।

ওই সভার পর দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদিকে একেবারে তুলোধোনা করেন। বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় মমতা মোদিকে গ্রেফতারেরও দাবি তুলেছেন। কোনো কোনো সভায় তিনি এমনও বলেন, ‘ভদ্রতার খাতিরে মোদিকে সভা-সমিতি করতে দিচ্ছি। এটাকে আমাদের দুর্বলতা ভাববেন না। নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আপনার সভা নিষিদ্ধ করে দিতে পারি।’

মোদির বক্তব্যের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এক নির্বাচনী সভায় বলেন, ‘উনি (মোদি) বাংলার সংস্কৃতি, শিক্ষা, সভ্যতা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ১৯৪৭ সালের পর এ দেশে আসা মানুষদের তাড়াতে গেলে তো লালকৃষ্ণ আদবানিকেও তাড়াতে হয়।’

এদিকে মোদিকে গ্রেফতারের দাবি করায় মমতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, ‘একজন মুখ্যমন্ত্রী কী করে আর একজন মুখ্যমন্ত্রীর নামে এ কথা বলতে পারেন?’

বস্তুত, ২৭ এপ্রিল মোদির বাংলাদেশী ফেরত পাঠানোর কথা বলার পরই  ক্ষেপে গেছেন মমতা ব্যানার্জি। উত্তর ২৪ পরগনা,হাবড়ার নির্বাচনী সভায় তিনি মোদিকে লক্ষ করে বলেছেন, ‘আমাদের রাজ্য বলে এত সবের পরও আপনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। ভোটের সময় বলে আমিও কিছু বলছি না। অন্য সময় হলে দেখে নিতাম। আপনাকে তো কোমরে দড়ি বেঁধে গ্রেফতার করা উচিত। দাঙ্গাবাজ কোথাকার।’

(170)