আমেরিকার কাছে একগুচ্ছ জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের


usa_morningsunbdবাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে তৃতীয় নিরাপত্তা সংলাপ হবে মঙ্গলবার। ১০টির বেশি এজেন্ডা নিয়ে এই সংলাপে রাজনৈতিক ও সামরিক ইস্যুগুলোর প্রাধান্য থাকবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি বৃদ্ধি ও দৃঢ় করতে বড় পরিসরে আলোচনা করবে দুই দেশ।

এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে আমেরিকার নীতিগত বক্তব্য জানতে চাইবে ঢাকা। এর পাশাপাশি সংলাপে প্রতিবেশি ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান জানতে আগ্রহী থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে নিরাপত্তা সংলাপের পরপরই আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে টিকফা ফোরামের দ্বিতীয় বৈঠক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের জানা গেছে, অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় নিরাপত্তা সংলাপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিষয়ক পররাষ্ট্র সচিব মুস্তাফা কামাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন।
অপরপক্ষে আমেরিকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি থমাস কেলি।

এর আগে দুই দেশের প্রথম নিরাপত্তা সংলাপ ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকায় এবং দ্বিতীয় নিরাপত্তা সংলাপ ২০১৩ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমেরিকার সঙ্গে এই বৈঠকের বিষয়েই প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্যসহ অন্য কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। এছাড়া এই বিষয়ে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। দুই বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ও প্রতিনিধিদের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মজীনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভারতে চলমান নির্বাচনের পর সম্ভাব্য নতুন সরকার নিয়ে কূটনৈতিক ‘স্থিতিবস্থায়’ রয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে ভারতে সরকারের পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে তা এখন বাংলাদেশের কাছে একটি বিবেচ্য বিষয়।

কারণ, কংগ্রেস জোট আবারও সরকার গঠন করলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরো বেগবান হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে, সেখানে বিজেপি নেতৃত্বের সরকার এলে চানক্যপুরির সঙ্গে ঢাকার সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কি সম্পর্ক হবে তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। এই ইস্যুতেই আমেরিকার অবস্থান জানতে উদগ্রীব বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

এছাড়া মায়ানমারের সঙ্গে আমেরিকা এখন বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ছে। কিন্তু, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান হচ্ছে না। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি ভাবছে- তাও পরিষ্কারভাবে জানতে চাইবে বাংলাদেশ।

নিরাপত্তা সংলাপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক অবশ্য বলেছেন, “দুই দফায় সংলাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র ইতিমধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১২ সালের প্রথম নিরাপত্তা সংলাপের পর প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়ে, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধবিষয়ক সহযোগিতাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা যথেষ্ট বেড়েছে।”

এবারও যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি শান্তিরক্ষা, জঙ্গিবাদ দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও আলোচনায় স্থান পাবে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশ জানতে চাইবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মায়ানমারের সম্পর্কের বিষয়ে আমেরিকা জানতে চাইতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক সংলাপের বড় অংশ জুড়ে থাকবে। যদিও দুই দেশের তৃতীয় মিলিটারি টু মিলিটারি সংলাপ শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অপর এক সদস্য জানান, ‘এক্সেস ডিফেন্স আর্টিকেল ইনিশিয়েটিভ’ এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় করে। সম্প্রতি কার্টার ও জার্ভিস নেভাল শিপ আমেরিকা থেকে কেনা হয়েছে। এবারও সংলাপে এর ভিত্তিতে নিরাপত্তা সহায়ক দ্রব্য ও অস্ত্রাদি ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

সূত্র জানায়, পরপর দুটি নিরাপত্তা সংলাপের পর জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, সমুদ্র নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও তার যথাযথ সংরক্ষণ, জলদস্যুতা প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

এছাড়া তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণও বেড়েছে। শুধু সংখ্যাই নয় এর পরিধি মানও বেড়েছে কয়েকগুণ।

অন্যদিকে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) আওতায় আমেরিকার সঙ্গে টিকফা ফোরামের বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আমেরিকার পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দল (ইউএসটিআর)। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমেরিকা বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার জোরালো দাবি জানানো হবে।

এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতিও তুলে ধরা হবে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে।

এদিকে আমেরিকা-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সংলাপে যোগ দিতে ঢাকায় আসা মার্কিন উপসহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অতুল কেশাপ বলেছেন, আমেরিকা গণতান্ত্রিক, নিরাপদ, স্থিতিশীল ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে আমেরিকা তার আগের অবস্থানেই আছে।”

তিনি বলেন, “দুটি শর্তে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। সহিংসতা বন্ধ ও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ। এই শর্তগুলো এখনও পূরণ হয়নি। হলেই সরকার আলোচনায় উদ্যোগী হবে।” সরকার আলোচনা চায় বলেও জানান তিনি।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিক উদ্ধার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে এমন ঘটনা ঘটে কিন্তু কোনো ক্লু পাওয়া যায় না। কিন্তু এবি সিদ্দিককে দ্রুতই উদ্ধার করা গেছে।”

(211)