আসামে জঙ্গি হামলায় শিশু ও মহিলাসহ নিহত ১০ মুসলমান


 

talibanউত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য আসামের পুলিশ বলছে গত ১২ ঘন্টায় সন্দেহভাজন বোড়ো জঙ্গিদের গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন – যারা সকলেই মুসলমান। এদের মধ্যে দুটি শিশু আর ছয়জন মহিলা রয়েছেন।আহত হয়েছেন চারজন।

বোড়োল্যান্ড এলাকার পুলিশ আইজিএল আর বিশনোই জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাটা বাকসা জেলার নরসিংগাঁওতে ঘটেছে। তিনজন মারা গেছেন আর তিনজন আহত হয়েছেন। এরপরে প্রায় মধ্যরাতে কোকড়াঝাড় জেলার বালাপাড়াতে দ্বিতীয় হামলা হয়, যাতে সাতজন মারা গেছেন।”

তিনি আরও জানিয়েছেন যে বোড়ো জঙ্গি গোষ্ঠী – ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড বা এনডিএফবি-র সঙবিজিৎ গোষ্ঠীই এই হামলার জন্য দায়ী বলে পুলিশের সন্দেহ।

কোকড়াঝাড় জেলার তামুলপুরে এক বোড়ো যুবক আহত হয়েছেন, তবে এটা এখনও নিশ্চিত নয়, যে মুসলিমদের গ্রামগুলোর ওপরে হামলার প্রতিশোধ নিতেই ওই যুবকের ওপরে হামলা হয়েছে কী না।এছাড়াও কোকড়াঝাড় শহরের মধ্যেই রাতে এক স্থানীয় সাংবাদিককে পিস্তলের বাঁট দিয়ে মেরে আহত করেছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।স্থানীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে হত্যার দুটি ঘটনাই প্রায় একই ভাবে ঘটানো হয়েছে। মুসলিমদের বাড়িগুলি ঘিরে ধরে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।

বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকায় ৭০% মানুষই অবোড়ো – যাদের একটা বড় অংশ বাংলাভাষী মুসলমান।বোড়োল্যান্ড এলাকার জেলাগুলিতে ২০১২ সাল থেকেই বোড়ো আর মুসলিমদের মধ্যে জাতি দাঙ্গা চলেছে – যাতে একশোরও বেশি মানুষ মারা গেছেন আর গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ।

বোড়ো সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাদের জমি, জঙ্গল দখল করে নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীরা। আর বাংলাভাষী মুসলমানদের কথায়, তাদের পূর্বপুরুষরা বহু দশক আগে থেকেই আসামে চলে এসেছিলেন কৃষিকাজ করতে।ত্রাণ শিবির থেকে অনেকে সাহস করে গ্রামে ফিরে যেতে পারলেও এখনো বহু মানুষ অন্য এলাকায় বসবাস করছেন।

মুসলিম নেতারা বলছেন, ২৪ এপ্রিল ওই এলাকায় ভোটগ্রহণ হওয়ার পর থেকেই ভীতিপ্রদর্শন চলছিল।অ-বোড়ো সংগঠনগুলি এবারই প্রথম জোটবদ্ধ হয়ে একজন প্রাক্তন আলফা কমান্ডার হীরা শরণিয়াকে প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়েছিলেন।

“এবারের ভোটে যেহেতু অ-বোড়ো সংগঠনগুলো এক হয়ে একজন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলাম, তাই বোড়ো জঙ্গিরা বদলা নিল।ভোটের পর থেকেই গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস চালাচ্ছিল। আর কাল রাতে এই দুটো ঘটনা হয়ে গেল,” বলছিলেন অল বোড়োল্যান্ড মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যা্সোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম।ভোটের আগে অনেক মুসলিম গ্রামবাসী-ই বিবিসি-কে জানিয়েছিলেন যে এবারে যদি তারা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেন, তাহলে তাদের সমর্থন হীরা শরণিয়ার দিকেই যাবে।

অন্যদিকে যেসব মুসলিম গ্রামের বাসিন্দারা বাড়ি ফিরে গেছেন, তাদের কয়েকজনই বলেছেন যে মিলে মিশে থাকতে গেলে বোড়ো দলকেই ভোট দিতে হবে, না হলে আবারও সন্ত্রাস শুরু হবে।২০১২-র দাঙ্গার পরে সেনাবাহিনী ও আসাম পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বে আইনী অস্ত্র উদ্ধার করতে শুরু করেছিল।আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন যে বেশিরভাগ বেআইনী অস্ত্রই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে মুসলিম সংগঠনগুলির অভিযোগ, যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী আত্মসমর্পন করেছে অথবা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গেছে, তাদের অস্ত্রভান্ডার সরকারের কাছে জমা দেয় নি।যৌথ অভিযানের পরেও অনেক অস্ত্র রয়ে গেছে আর সেই সব অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েই হামলা হচ্ছে মুসলিমদের ওপরে।– বিবিসি।

(138)