গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন দিন: খালেদা জিয়া


khaledaদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়া আর কারও নিরাপত্তা নেই—জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশনে শ্রমিকদলের বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দলে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন আর জ্যেষ্ঠ নেতারা তরুণদের পথ চলার উপদেশ দেবেন বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘এরশাদকে নিয়ে বেশি দিন থাকতে পারবেন না, থাকতে পারবেন না। বিদায় নিতেই হবে, নিতেই হবে। এরা ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। কী কাজ করছেন, কোথায় টাকা যাচ্ছে- সব তথ্য আছে।’

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা।

ওই নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘নিজেরা নিজেদের ভোটটা দিতেই যায়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বা আগে বাংলদেশে এ রকম কখনও হয়নি। দেশবাসিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাবো এ প্রহসনের নির্বাচনে যান নাই তার জন্য।’

নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেখা যাক জনগণ কাদের ভোট দেয়।’

মানুষ তাদের সমর্থন দেবে না-এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘সে জন্যই তারা নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। এটা হতে দেয়া হবে না। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেই হবে।’

বর্তমান সরকার জনগণ থেকে বিছিন্ন- এমন দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিশ্ব বলছে সবার অংশগ্রহণে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন করা প্রায়াজন গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

দেশে গণতন্ত্র নেই বলে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের ধরে নিয়ে গুম করা হয়- এমন অভিযোগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারো লাশ পাওয়া য়ায়, কারো যায় না। দেশ কঠিন সময় পার করছে—দেশে কারও জীবন নিরপাদ নয়, আওয়ামী লীগ ছাড়া।’

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আবু বকর সিদ্দিককে কীভাবে গুম করা হলো। এ হলো অবস্থা। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলো। যখন পৃথিবীর সব জায়গা থেকে প্রতিবিাদ শুরু হলো। সরকার দেখলো একে ছেড়ে নো দিলে পরিস্থিতি হতো ভয়বাহ।’

‘অবৈধ সরকার ভদ্রলককে ছেড়ে দিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হতো। সেটা সরকার বুঝতে পেরেছে। এখনও আমরা ইলিয়াসকে ফিরে পায়নি’, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘অবৈধ সরকারকে বলব এখনও যাদের আটকে রেখেছেন তাদের ছেড়ে দিন। প্রতিটি মানুষ যারা গুম হয়েছেন, তাদের হিসাব থাকে আমাদের কাছে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম করে হত্যা করছেন, এর জবাব দিতে হবে।’

বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের মূল দল দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে তো আপনাদের তেমন কোনো অবদান নেই সীমান্ত পাড়ি দেয়া ছাড়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল দল হলো বিএনপি।’

‘তারা বলে মুক্তিযুদ্ধে তারা জিয়াউর রহমানকে দেখেননি। জিয়াকে তারা কীভাবে দেখবেন? তিনি ছিলেন রণাঙ্গনে। তারা ছিলেন থিয়েটার রোডে’, যোগ করেন তিনি।

এসময় খালেদা জিয়া দেশের স্বার্থে মিলেমিশে কাজ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আসুন মিলেমিশে আলোচনা করে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করি। দেশকে রক্ষা করতে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।’

এর আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের জাতীয় সম্মেলন ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

অনুষ্ঠনে সভাপতিত্ব করছেন শ্রমিকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান।

কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। মিলনায়তনের ভেতরে বিএনপি নেতা, আয়োজক সংগঠনটির কাউন্সিলর এবং সাংবাদিকদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।স্থান সংকুলান না হওয়ায় নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই বাইরের চত্বরে ও রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। ভেতরের চিত্র দেখার সুবিধার্থে বাইরে বড় পর্দার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

১২ এপ্রিল সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সম্মেলন হয়। সেটিও উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া। তবে তিনি চলে যাওয়ার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কাউন্সিল স্থগিত করা হয়।

(142)