চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থায়ী ঠিকানা পেল ২৯টি আদিবাসী পরিবার


???????????????????????????????জাকির হোসেন:সদর উপজেলার গোবরাতরা ইউনিয়নের আমারক আদীবাসী গ্রামের ২৯টি ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার স্থায়ী ঠিকানা পেল ।  বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস চত্ত্বরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯টি পরিবারের মাঝে ১.৩০ একর খাস জমির কবুলিয়ত দলিল হস্তান্তর করেন।

জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত দলিল হস্তান্তর করতে পেরে আমরা আনন্দিত বোধ করছি। প্রকৃত ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরনের উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করছি। জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী বলেন, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি    হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-সার্বিক কামরুজ্জামান সেলিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ড.চিত্রলেখা নাজনিন, আদিবাসী নেতা বঙ্গপাল সরদার, কর্নেলিউস মুরমু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিলাব্রত বর্মণ।

উল্লেখ্য, যুগ যুগ ধরে আমারক গ্রামে ২৯টি পরিবার খাস জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। অথচ স্থাানীয় একজন প্রভাবশালী জোতদার উক্ত খাস জমি নিজের দাবি করে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করে আসছিলেন। বিষয়টি সাংবাদিকরা  উপজেলা সহাকরী কমিশনার (ভূমি) শিলাব্রত বর্মণের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর মাঝে খাস জমি বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এতে সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী।

খাসজমি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত আমরক আদী গ্রামবাসীদের একটি সাংস্কৃতিক দল অনুষ্ঠানে নেচে-গেয়ে ফুলের মালা দিয়ে অভিনন্দন জানান কর্মকর্তাদের । প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে গ্রামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হীরেন্দ্রনাথ ঘাটোয়াল বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি অথচ জমির মালিকানা আমাদের ছিলনা। মিথ্যা মালিকানা দাবিদার ব্যক্তিকে আমরা খাজনা দিয়ে আসছি। জমির মালিকানা পেয়ে আমরা গ্রামবাসী যে আনন্দ পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এ ব্যাপারে সহায়তা প্রদানকারী সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

(135)