চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা উচিত নয়’


healthভুল চিকিৎসা, রোগীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে একজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে সব চিকিৎসকের ধর্মঘটে যাওয়াও অনুচিত। সরকারের উচিত হবে রোগী এবং চিকিৎসক দুই পক্ষেরই স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। তারা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকার সমালোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা চলে গেলে অপচিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দরিদ্ররা ভুগবেন। কারণ তারা প্রভাবশালী নন। প্রভাবশালী কারও সামান্য কোনও অসুখ দেখা দিলেও মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বিদেশে পাঠানো হয়। দেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাতের হাড় ভাঙার চিকিৎসার জন্য জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়েছেন। দেশে চিকিৎসা সম্ভব এমন রোগের চিকিৎসা করাতেও রাষ্ট্রপতি সিঙ্গাপুরে যান।

একই সঙ্গে তারা বলেন, চিকিৎসকদের ধর্মঘটে যাওয়া অসাংবিধানিক।

গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য ও চিকিত্সকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের রশিদ ই মাহবুব বলেন, চিকিৎসকদের নৈতিক দায়বদ্ধতা আছে। তিনি সেটি মানছেন কি না, দেখার দায়িত্ব বিএমডিসির। বিএমডিসির সেটি করার ক্ষমতা নেই। সংবাদপত্রগুলো কখনও কখনও চমক সৃষ্টির জন্য ‘ভুল চিকিৎসা’ কথাটি ব্যবহার করে থাকে। এতে কারোরই লাভ হয় না, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়।

বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার বলেন, ‘চিকিৎসা পেশার মানবিক দিক দিনে দিনে কমে গিয়ে ব্যবসায়িক দিক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই আর্থিক লাভ-ক্ষতির বিবেচনায় ভুল-ভ্রান্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং কিছুটা অপরাধের পর্যায়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’

বামপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকদের দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা ঠিক হবে না।

(113)