জিএসপি ফিরে পেতে মঙ্গলবার প্রতিবেদন


tofaelবাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি ফিরিয়ে দিতে আমেরিকা যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল, এরই মধ্যে তার অধিকাংশ পূরণ করা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ১৫ এপ্রিল জিএসপি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে একটা প্রতিবেদন আমেরিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ”আজকেই (রোববার) আমরা মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ২০১৩ সালের অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী আমেরিকা যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল, তার অধিকাংশই আমরা পূরণ করেছি। এর মধ্যে কিছু শর্ত আছে দীর্ঘমেয়াদি, যেগুলো পূরণ করতে সময় লাগবে। আমরা আগামী ১৫ তারিখেই রিপোর্ট দিয়ে দেব এবং আমরা মনে করি এই রিপোর্ট পাঠানোর পর আমাদের জিএসপি না দেয়ার আর কোনো কারণ থাকতে পারে না।”

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের বিশেষ সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত হয়ে আছে প্রায় ১০ মাস ধরে। এর ফলে ক্ষতির শিকার হচ্ছে সিরামিক, প্লাস্টিকসহ অন্তত এক ডজন শিল্প। আমেরিকার বাজারে এসব পণ্য এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছে।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ভবনধসের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা সরকার ওই বছরের ২৭ জুন এই সুবিধা স্থগিত করে। ফলে এখন আমেরিকার বাজারে সিরামিক, প্লাস্টিক, মাছ, জুতা, সবজি ও ফল থেকে প্রক্রিয়াজত পণ্যসহ অন্তত এক ডজন পণ্য রপ্তানি করতে শুল্ক দিতে হচ্ছে। এটি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের টিকে থাকা কঠিন করে দিচ্ছে।

প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানীকারক সমিতির সভাপতি জসিমুদ্দিন বলছেন, “জিএসপি স্থগিতের কারণে আমাদের গ্রোথ কমে গেছে। আমরা অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছি। এতে অনেক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে আমরা এখন নতুন বাজার খুঁজছি।” জিএসপি স্থগিতের কারণে আমেরিকায় প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কমেছে বলেও জানান তিনি।

জসিমুদ্দিন বলেন, ”আমাদের জন্য আমেরিকার মার্কেট অত বড় না। সেখানে মূলত চীন ডমিনেট করে। তবে আমরা জিএসপির নিয়ে আমেরিকার বাজারটা ধরছিলাম, এগোচ্ছিলাম। কিন্তু জিএসপি স্থগিতের কারণে আমাদের সেই গ্রোথ কমে গেছে। আমরা অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছি। এতে অনেক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। এসব কারণে আমরা এখন নতুন বাজার খুঁজছি।”

একই অবস্থা সিরামিক শিল্পেরও। আমেরিকায় বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার সিরামিক পণ্য রফতানি হলেও এবার ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার বেশি রফতানি হবে না বলে জানালেন সিরামিক কারখানা মালিকদের সংগঠন-বিসিডাব্লিউএমএর মহাসচিব রিজভি-উল-কবির। তার দাবি, সিরামিক পণ্যে লাভ কম। তাই উৎপাদন খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক যোগ করার পরে পণ্যের যা দাম দাঁড়ায়, তা যে কোনো কোম্পানির জন্যই বহন করা কঠিন।

এ অবস্থায় আমেরিকায় চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর কারণে বাংলাদেশের বাজার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

কবির বলেন, ”সিরামিক খুব লাভজনক পণ্য নয়। তার ওপর ২৫ শতাংশ ডিউটি দিয়ে, দাম কমিয়ে অন্য কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ঢোকা খুবই কঠিন। আসলে ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমেরিকার দিকে ঝুঁকছিলেন।”
”কিন্তু এখন আমরা দেখছি দামের কারণে অনেক কোম্পানিই আমাদের সঙ্গে চুক্তি হাফ ডান অবস্থায় রেখে দিচ্ছে। দাম দর মিলছে না।”

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। তবে সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য পোশাক শিল্পে জিএসপি সুবিধা নেই।

ফলে আমেরিকার বাজারে জিএসপি স্থগিতের কারণে দেশের রফতানি আয়ের যে ক্ষতি হচ্ছে, টাকার হিসাবে তা হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় সবচেয়ে বেশি হুমকিতে পড়েছে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।

কারণ আমেরিকার দেখাদেখি ইউরোপের দেশগুলোও যদি বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি  স্থগিত করে, সেটি অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে, আর ব্যবসায়ীদের ভয়টা সেখানেই। সূত্র: বিবিসি।

(129)