টকশোতে মল্লযুদ্ধ, স্টুডিও চুরমার


2520140508185300 (1)

বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচুর টকশো হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে এসব কথার অনুষ্ঠান চলে গভীর রাত পর্যন্ত। টকশো একটা সময় টেলিভিশনের দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বিষয়বৈচিত্র্যের অভাব ও আলোচকদের জ্ঞানের প্রাসঙ্গিক গভীরতা নিয়ে সম্প্রতি বিরক্তিও আছে দর্শকদের মাঝে।   সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা টকশোর বিষয়বস্তু হলেও অতিথি বা আলোচকরা মাঝেমধ্যেই নিরপেক্ষ অবস্থান ছেড়ে নিজ নিজ মতাদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে আবেগের আশ্রয় নেন।  করে বসেন নানান কাণ্ড। বেফাঁস ও অশ্লীল কথাবার্তাও বলে ফেলেন অনেকে।  সরাসরি প্রচারিত এসব টকশো নিয়ে বিব্রতকর ঘটনার মুখোমুখিও হয়েছেন অনেকে।

তবে অতিথি আলোচকদের মধ্যে হাতাহাতি কিংবা মারামারির ঘটনা এখনো আমাদের দেশে ঘটেনি। তবে সম্প্রতি টকশোতে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে জর্ডানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে।   গত মঙ্গলবার জর্ডানের টেলিভিশন চ্যানেল সেভেন স্টারের স্টুডিওতে ঘটেছে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা। দুই আলোচক স্টুডিওতে মারামারি করেই খান্ত দেননি, আলোচনার টেবিলটিও ভেঙে ফেলেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো স্টুডিও কক্ষ। মাঝপথে বন্ধ করতে হয় সম্প্রচার। গত মঙ্গলবার রাতে জর্ডানের আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল সেভেন স্টারে চলছিল টকশো। আলোচনার প্রসঙ্গ ছিল সিরিয়ার চলমান পরিস্থিতি।    জর্ডানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান শাকের আল জাওয়াহারি এবং আরবি ভাষার জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল আল মোস্তাকবাল আল আরাবিয়ার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ শারিফ আল জিইওয়াসি স্টুডিওতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উভয় আলোচকই জর্ডানের গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। জিইওয়াসি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ নিয়ে আলোচনা শুরু করলে চেয়ার ছেড়ে তার দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে যান প্রতিপক্ষ জাওয়াহারি। উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত কথা-কাটাকাটি চলে কিছুক্ষণ। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মারামারি করতে গিয়ে আলোচকদ্বয় ভেঙে ফেলেন স্টুডিওর বড় টেবিলটি। একপর্যায়ে আসাদ-সমর্থক জিইওয়াসিকে লাথি মারতে উদ্যত হন জাওয়াহারি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এই সময় দুই অতিথিকে থামাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে স্টুডিওর কর্মীরা দুজনকে দুই দিকে টেনে নিয়ে যান। কিছু সময় সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পরে তা চালু করা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সঞ্চালক দর্শকদের কাছে পরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য, আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল সেভেন স্টার মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

(321)