তিস্তায় রেকর্ড পরিমাণ পানি


teesta-waterগত ৩ মাস পানির জন্য খাঁ খাঁ করা তিস্তার বুকে আবার জমেছে পানি। ডালিয়া ব্যারেজের প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ মৌসুমে তিন মাসের মধ্যে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ পানি এসেছে তিস্তায়।

তিস্তা ব্যারেজের উজানে স্বাভাবিক পানির ধারা না থাকায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে ব্যারেজের ভাটি অঞ্চল। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিস্তায় পানিশূন্যতা বেড়েই চলছে। এতদিন নামমাত্র পানি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারী ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দোয়ানী তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকা।

সেই প্রমত্তা তিস্তায় পানির ধারা স্বাভাবিক করার দাবিতে সিপিবি-বাসদসহ বাম মোর্চার রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর মধ্যে তিস্তা অভিমুখে রাজনৈতিক দলগুলোর লংমার্চ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সিপিবি-বাসদের লংমার্চ কর্মসূচির চারদিন পর ২৩ এপ্রিল বিএনপির লংমার্চ তিস্তা হ্যালিপ্যাড মাঠে পৌঁছানোর আগেই ব্যারেজের উজানে প্রায় প্রমত্তা তিস্তা টইটম্বুর হয়ে ওঠে।

এ সময়ের পানিপ্রবাহের পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়ে দাঁড়ায় ২২ এপ্রিল। ওইদিন ৩ হাজার ৬০০ কিউসেক পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। কিন্তু ২৩ এপ্রিল তিস্তা হ্যালিপ্যাড মাঠে যখন বিএনপির লংমার্চ চলছিল তখন ব্যারেজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৪২ কিউসেক। চলতি সপ্তাহের শনিবার পানিপ্রবাহ ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কিউসেক, রবিবার ছিল ১ হাজার ৯৫৫ কিউসেক।

ডালিয়া দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান পানি বৃদ্ধির ব্যাপারে বলেন, ‘পানি কমা কিংবা বাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটকে আছে। তবে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। যেটুকু পানি পাচ্ছি তা দিয়ে সেচের চাহিদাই তো মিটছে না, সেখানে নদীতে পানিপ্রবাহ কোথা থেকে থাকবে। তিস্তা নদীকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই ১০ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ রাখতে হবে। তবে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ পানি এসেছে আজ (মঙ্গলবার)। তবে পানির গড় আনুমানিক ৪ হাজার কিউসেক ছড়িয়ে যাবে।’

(106)