তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দক্ষিণাঞ্চল


hot_weather_morningsunbdতীব্র দাবদাহে পুড়ছে সাতক্ষীরাসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। বৈশাখের খরতাপে জনজীবন ওষ্ঠাগত। গ্রীস্মের দাবানলে জেলাবাসী নাকাল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থতিতে বৃষ্টির কোনো সুখবর দিতে পারেনি জেলা আবহাওয়া অফিস।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ অস্বস্তিকর অবস্থা। গত ১৬ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাপমাত্রা প্রায় একই রকম রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৫ জুনের আগে সাতক্ষীরায় বৃষ্টি হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে মৌসুমি বায়ুর গতি ও বেগ পরিবর্তন হলে বৃষ্টি হতেও পারে। আপাতত বাতাসে জলীয়বাষ্প নেই বললেই চলে।

বাতাসে জলীয়বাষ্প না থাকাটা গরমের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আবহাওয়া অফিস। কেননা তাপমাত্রার পাশাপাশি যদি বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকতো তবে গরমের তীব্রতা আরো বাড়ত এবং তাতে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠত। পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপ বিকরিত হতে পারত না। জলীয়বাষ্পের কারণে তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি হয় বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

এদিকে তীব্র খরতাপে পুড়ছে গোটা দক্ষিণাঞ্চল। এতে প্রাণিকূলের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। শীতল পরশ পাবার আশায় মানুষ গাছ তলায় আশ্রয় নিচ্ছেন। শরবত, আইসক্রিম, রসালো ফল খেয়ে শীতল হবার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

দীর্ঘ ৬ মাস বৃষ্টিহীন থাকায় এবারের খরতাপের মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

গ্রীস্মের খরতাপে জেলা চিংড়ি শিল্পের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খরতাপ কমাতে চিংড়ি ঘেরে মড়ক দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগীর উপস্থিতি বাড়ছে। হিট স্ট্রোকজনিত রোগে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল দিনের গড় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল বিকেলে ৩৫ শতাংশ এবং সকালে ৯৩ শতাংশ। এর আগে ২৩ এপ্রিল গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা সকালে ৮৯ শতাংশ বিকেলে ২০ শতাংশ। ২২ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল সকালে ৮৭ শতাংশ বিকেলে ৩০ শতাংশ। এভাবে গোটা সপ্তাহ জুড়ে চলছে তাপমাত্রার ওঠানামা।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক দিদারুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, গত বছর ২৪ এপ্রিল তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫২ থেকে ৯৭ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, গত বছর ১৬ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এ বছর একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের তুলনায় এ বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর একই সময়ে ৫ দিন বৃষ্টিপাত হলেও এ বছর বৃষ্টির দেখা নেই।

দিদারুল ইসলাম বলেন, গত বছর ১৬ এপ্রিল ১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার, ১৭ এপ্রিল ৪ মিলিমিটার, ১৮ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার, ১৯ এপ্রিল শূন্য দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল ৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। কালবৈশাখী ঝড় এবং মৌসুমি বায়ুর গতিবেগ পরিবর্তন হলে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। গত বছরের তুলনায় এ বছর তাপমাত্রা বেশি এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম।

(121)