দামুড়হুদায় জবাই করে নৈশ প্রহরীকে হত্যা-৩ কিলার আটক


Jobai_Kora_Hottaচুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের চৌধুরীপাড়ার জলাশয়ের নৈশ প্রহরী মন্টু মিয়াকে (৪০) ঘুমন্ত অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এই হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের নূর হোসেন ওরফে ছমিরের ছেলে। এই হত্যার সাড়ে জড়িত বাবু (৩৫), আসান (৩৬) ও জাহিদ (২৮) নামে ৩ কিলারকে রাতেই পুলিশ দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ৭ টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের চৌধুরীপাড়ার জলাশয়ের ধারের ভূমিহীন বাসিন্দা মৃত. নূর হোসেন ওরফে ছমিরের ছেলে জলাশয়ের নৈশ প্রহরী মন্টু মিয়া রাতের খাবার খেয়ে ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল। সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৫/৭ জন দুর্বৃত্ত মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে জবাই করে ও কুপিয়ে র্নিরবিঘেœ পালিয়ে যায়।

এসময় মন্টুর গোংরানিতে পরিবারের লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারা উঠে হারিকেন জালিয়ে দেখে মন্টুর ঘুমিয়ে থাকা জায়গা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তার গলা ও পেট কাটা। পেটের নাড়ি ভুড়ি বেরিয়ে আছে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে মারা যায়। এই হত্যার সাথে জড়িতদের ধরতে (আটক করতে) পুলিশ রাতেই সাড়াশি অভিযান শুরু করে।

অভিযানে এই হত্যার সাথে জড়িত ৩ কিলার জয়রামপুর ডাক্তার পাড়ার চাঁদ মন্ডলের ছেলে বাবু, বারই পাড়ার মৃত. রবিউল ইসলামের ছেলে আসান ও মল্লিক পাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে জাহিদকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ আসানের বাড়ি থেকে ২ টি ডাসা, ৩ টি ভুজালি ১ টি চাকু ও বাবুর বাড়ি থেকে একটি হাসুয়া উদ্ধার করে।
বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে নিহত মন্টুর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে দামুড়হুদা মডেল থানায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি  হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

(132)