দুই থেকে সাত বছর জেল হতে পারে এরশাদের


ershadনির্দিষ্ট সময়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ আসনের ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা না দেওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ আসনে এরশাদ পরাজিত হন। নির্বাচনী আইন অনুসারে পরাজিত প্রার্থীকে তাঁর কোনো ব্যয় না হয়ে থাকলেও তা উল্লেখ করে রিটার্নিং অফিসার ও ইসিকে জানাতে হয়।

সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ আসনে তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী জমা দেননি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত ৭ ফেব্রুয়ারি।

লালমনিরহাট-১ আসনের নির্বাচনী ব্যয় বিবরণীর বিষয়ে এরশাদের বক্তব্য জানার জন্য গত রাতে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া মেলেনি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২-এর বিধান অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করলে তিনি দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত করাদণ্ড এবং একই সঙ্গে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩, লালমনিরহাট-১ ও ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনারও জন্ম দেন তিনি। এরশাদ গত ১২ ডিসেম্বর এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে বলেন, “জাতীয় পার্টি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকপ্রাপ্ত। আমাদের পার্টির সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত বর্তমান তফসিল মোতাবেক জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে বিরত থাকবে এবং ইতিমধ্যে পার্টি প্রদত্ত সকল মনোনয়ন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক কাউকে বরাদ্দ না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”

এরশাদের পক্ষে তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ ইসি সচিবের হাতে ওই চিঠি পৌঁছে দেন। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অবস্থান, রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ- এসব ঘটনা তাঁর ভূমিকাকে রহস্যময় করে তোলে। এদিকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ইসিতে চিঠি দিলেও শুধু ঢাকা-১৭ আসনে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়। প্রার্থিতা বহাল থাকে রংপুর-৩ ও লালমনিরহাট-১ আসনে।

ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর-৩ আসনে তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এ আসনের নির্বাচনে তাঁর মোট সাড়ে ৩৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে জামানত দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং ভোটার তালিকার সিডি কেনার জন্য সাড়ে ১৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে তাঁর। নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো, জনসভা, নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এসব কাজে কোনো ব্যয় হয়নি। সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

(143)