দুপুরের গরমে খেলাটা ‘নির্মম’


Fifa-World-cup-2014-brail

বিশ্বকাপে খেলার সময়সূচি দেখে ইউরোপের ফুটবল খেলুড়ে শীর্ষ দেশগুলোর আগাম ঘাম ঝরছে। আয়োজক দেশ ব্রাজিলে এবারের বিশ্বকাপে খেলা হবে দিনে পৃথক তিন সময়ে। এখানে স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় খেলা হবে বিশ্বকাপের ২৪টি ম্যাচ। আর ব্রাজিলের অত্যধিক উষ্ণ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেসিফে বা ফোর্তোলেজার মতো শহরে দুপুরের গরমে সূচি নিয়ে আগাম ঘাম ঝরছে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর। বার্তা সংস্থা বিবিসি জানাচ্ছে, এখানে দুপুর ১টায় খেলার সূচি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন খোদ স্থানীয়রা। রেসিফে, সালভাদর, ফোর্তোলেজা বা নাতালের স্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড়রা বলছেন, দুপুরের গরমে এখানে ফুটবল খেলাটা এককথায় নির্মম। ব্রাজিলে বসছে ২০তম বিশ্বকাপ আসর। দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশে বিশ্বকাপ বসছে এ নিয়ে পঞ্চমবার। লাতিন আমেরিকায় আগের চার বিশ্বকাপে ইউরোপের কোন দলের সাফল্য নেই। এখানে ইউরোপিয়ানরা ফাইনাল খেলেছে একবার মাত্র। আর্জেন্টিনায় ১৯৭৮’র বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে স্বপ্ন ভাঙে ইয়োহান ক্রুয়েফ-নিসকেন্সদের নেদারল্যান্ডসের। ১৯৩০-এ উরুগুয়ে, ১৯৬২’র বিশ্বকাপ চিলি এবং ১৯৭৮-এ বিশ্বকাপ বসে আর্জেন্টিনায়। তবে এ তিন বিশ্বকাপে জুন-জুলাইয়ের ওই সময়টায় তিন দেশে বিরাজ করছিল শীতকালীন আবহাওয়াই। ১৯৫০-এ বিশ্বকাপ বসে লাতিন আমেরিকায়। সেবার ব্রাজিলের দক্ষিণে শীতপ্রধান দুই শহর রিও ডি জেনিরো ও সাওপাওলোতে বসে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ। তবে ব্রাজিলে এবারের পরিস্থিতি আলাদা। ২০১৪’র বিশ্বকাপ বসছে ব্রাজিলের ভিন্ন প্রান্তের পৃথক ১২টি শহরে। বিশ্বকাপে খেলার সূচি প্রকাশে বরাবরের মতো ইউরোপের দর্শকদের সুবিধার কথা আগে বিবেচনা করেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। এতে তিন পৃথক সময়ে হচ্ছে বিশ্বকাপে এবারের খেলাগুলো। আর দুপুর ১টা ও ব্রাজিলে পড়ন্ত বিকাল ৪টায় রাখা ম্যাচগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে চিন্তিত ইউরোপিয়ানরা। বিশ্বকাপ ড্রতে গ্রুপে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে ভাগ্যবান দল মানা হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপে তাদের খেলার সূচিটা এর প্রধান কারণ। ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দাবদাহে এক ম্যাচও খেলতে হবে না আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপে নিজেদের সূচি দেখে ঘাম ঝরছে শিরোপাপ্রত্যাশী জার্মানির। কঠিন গ্রুপে জার্মানরা পর্তুগাল ও ঘানাকে মোকাবিলা করবে সালভাদর-রেসিফের দুপুরের দাবদাহে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির লড়াই ফোর্তোলেজার ঘর্মাক্ত পড়ন্ত দুপুরে। মানাউস, রেসিফে, নাতালের দুপুরে সূচি নিয়ে চিন্তায় শিরোপাপ্রত্যাশী ইতালি ও ইংল্যান্ডও। ১৯৯৪’র বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে এমন গরমে ফাইনাল খেলছিল ইতালি ও ব্রাজিল। ইতালি ফরোয়ার্ড রবার্তো দোনাদোনি ম্যাচের বিরতিতে কোচ আরিগো সাচ্চিকে বলেন, প্রতিপক্ষ অর্ধে একবার উঠলে খেলোয়াড়দের দৌড়ে নিচে নামাটা কষ্টকর হচ্ছিল। ১২০ মিনিটের গোলশূন্য ফাইনাল শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লোস আলবার্তো ও ইতালি কোচ সাচ্চি একযোগেই বলেন, এমন প্রচণ্ড গরমে খেলার ক্লান্তিটা বরং ইনজুরির চেয়ে বেশি।

(162)