দেশেই আছেন নূর হোসেন যে কোনো সময় গ্রেফতার


nurনারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে যে কোনো সময় গ্রেফতার করা সম্ভব হতে পারে! পুলিশ জানিয়েছে, নূর হোসেন এখনও বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেননি। দেশের ভেতরে কোথাও তিনি লুকিয়ে আছেন। তাকে ধরার জন্যবিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, নূর হোসেনকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে কাজ এগোচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নূর হোসেন পালাতে পারেননি। তাই খুব দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি না নূর হোসেন পালাতে পেরেছেন। তবে এটি খুব বড় একটি মামলা। ছোট ছোট তদন্ত চলছে। এই ছোট তদন্তগুলো মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তার আগে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’ এদিকে গতকাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, আসামিদের গ্রেফতারের সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুব্রত কুমারকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়াকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জাকারিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা যেসব তথ্য দিচ্ছে তার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চলছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগির তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’গতকাল বৃহস্পতিবার সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে নূর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নূর হোসেনের বাড়িতে এখন কেউ নেই। সবাই পলাতক। তার আত্মীয়স্বজনও অনেকে পলাতক। এমনকি স্বজনরাও এখন নূর হোসেনের আত্মীয় বলে পরিচয় দিচ্ছেন না।

নজরুলের ছোট ভাই আবদুস সালাম গতকাল বলেন, ‘আসামিরা কেউ এলাকায় নেই। তাদের সবার বাড়িঘর বন্ধ। তাদের বউ-ছেলেমেয়েরাও এলাকায় নেই। তারা আসলে আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। ইয়াছিন, রাজু ও হাসু আগেই ভিসা করে রেখেছিল। ঘটনা ঘটিয়েই তারা পালিয়েছে। এর মধ্যে ইয়াছিন সিঙ্গাপুরে চলে গেছে বলে আমরা জেনেছি। সেখান থেকে সে নজরুলের শ্বশুরকে হুমকিও দিয়েছে।’ নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম জানান, হুমকির বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিদেশ থেকে কয়েকজন তার মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছে। যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছে সে নম্বরও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।সূত্রঃ সমকাল

(190)