দ. কোরিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষক আত্মহত্যা করলেন


w

দক্ষিণ কোরিয়ায় মর্মান্তিক ফেরি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া স্কুলের এক শিক্ষক শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন। স্কুলের এতগুলো শিক্ষার্থীদের অকাল মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা যায়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, ডুবে যাওয়া ফেরিটির প্রায় ২৭০ জন যাত্রী এখনো নিখোঁজ, যাদের বেশিরভাগই সিউলের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী। ৫২ বছরের স্কুল শিক্ষক ক্যাংঙ মিন গিউ  তার পরের জনমে সাগরে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। ক্যাংঙ এবং তার ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ওই দুর্ঘটনা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সিউলের ডানউন হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ক্যাংঙের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে তিনি ব্যায়ামাগার সংলগ্ন একটি গাছের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ব্যায়ামাগারের বাইরেই নিখোঁজদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন তার স্বজনেরা।

পুলিশ ক্যাংঙের মৃতদেহ জিম্মায় নেয়ার পর তার মানিব্যাগ থেকে দু পাতার একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পায়। সেখানে লেখা ছিল, স্বার্থপরের মতো একা একা বেঁচে থাকাটা খুবই কষ্টের যখন ২শ জন সাগরের বুকে হারিয়ে গেছে। আমি এই দুর্ঘটনার পুরো দায়িত্ব নিজের ওপর নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম। তিনি আরো বলেছেন, মরার পর আমার দেহ আগুনে পুড়িয়ে ছাইগুলো সাগরে ছড়িয়ে দিও যেখানে ফেরিটি ডুবেছে। পরের জনমে আমি আবার হারিয়ে যাওয়া ছাত্রদের শিক্ষক হয়েই জন্ম নিব। তার শেষ ইচ্ছা পূরণ হতে চলেছে। পুলিশ ক্যাংঙের লাশ পুড়ানোর জন্য সিউলের জিন্দো শ্মশানে নিয়ে গেছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী তার দেহভস্ম ছড়িয়ে দেয়া হবে সাগরে, যেকানে ফেরিটি

প্রসঙ্গত, বুধবার ৪৭৬ জন যাত্রী নিয়ে ফেরিটি কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ডুবে যায় যাত্রীবাহী ফেরিটি। এদের অধিকাংশই ছিল ছাত্র-ছাত্রী। ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জন শিক্ষক মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ফেরির চালক এবং দুই ক্রুকে আটক করা হয়েছে। স্কুল থেকে আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়  ওইসব শিক্ষার্থীরা।

(176)