নজরুলকে হত্যা করে আমার হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে


Shamim-Osmanসিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা জড়িত বলে মন্তব্য করছেন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে নজরুল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় যারা জহিরুল ইসলাম পারভেজকে (ওরফে ক্যাঙ্গারু পারভেজ) গুম করেছে তারাই নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নজরুলকে হত্যা করে আমার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে, সে আমার তৈরি করা ছেলে। সেই ছাত্রলীগ করা ছেলে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমার নিজেরও নিরাপত্তা নেই। আমি শামীম ওসমানও এখন নিরাপত্তার জন্য জিডি করেছি।

শামীম ওসমান বলেন, গত ১৮ এপ্রিল এক সমাবেশে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন শামীম ওসমানের চেলারা আগামী কিছু দিনের মধ্যে টের পাবা। তিনি তো টের পেয়েই দিলেন। আমার ছেলেরা মরছে।

জনসভায় নারায়ণগঞ্জের এ সাংসদ উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমি কি রাজনীতি করবো। আমি মনে করি আমার আর রাজনীতি করার যোগ্যতা নেই।’

নজরুল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে শিমরাইলে সমাবেশে নিহত সিটি প্যানেল মেয়রের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড, গুম কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটলেই সবার আগেই অভিযোগের তীর ছুড়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দিকে। কিন্তু বরাবরেই মতোই এসব ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেনও তিনি।

তবে সিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে শামীম ওসমানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। এমনকি এ ঘটনার সঙ্গে নজরুল ইসলামের পরিবারেও তাকে অভিযুক্ত করে।

অবশেষে রোববার শিমরাইলে নজরুল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে নজরুল পরিবারের পক্ষে এক সমাবেশে বরাবরের মতো এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান শামীম ওসমান। এ সময় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা কখন কিভাবে হত্য্যার পরিকল্পনা নেয় এ তথ্য সম্বলিত ৩৫ মিনিটের একটি অডিও প্রকাশ করার কথা বলেন।

গত রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র-২ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নজরুল ইসলাম ওরফে গোঁয়ার নজরুল ও তার চার সহযোগীকে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারসহ র্যা ব পরিচয়ে অপহরণক হয়। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও নিখোঁজ হন।

পরে বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছি ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নজরুল ইসলামসহ ৬ জনের হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় হাত-পা বাঁধা আরো একটি লাশ পাওয়া যায়।

(142)