নাটোরে জামায়াতের মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত ২৬, গ্রেফতার ৪


nator_morningsunbdনাটোরে সোমবার সকালে জামায়াতের মিছিলে পুলিশের ছোঁড়া গুলি ও কাঁদানে গ্যাসে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাসহ জামায়াত-শিবিরের ২০ জন নেতা-কর্মী এবং জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছোঁড়া ইট-পাটকেলে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ জামায়াত ও শিবিরের চারজন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- আবু তালেব, আলী, আলিফ ও ওমর আলী।

চোখে ও মাথায় ছয়টি গুলি নিয়ে নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস সাবেক ছাত্রশিবির নেতা শামসুল ইসলাম কল্লোলকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে নাটোর মিশন হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকাল ৯টার দিকে শহরের হরিশপুর বাইপাস মোড় থেকে নিজামী-সাঈদীসহ আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করে নাটোর শহর জামায়াত। জেলা আমির অধ্যাপক মো. ইউনূস আলী, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান ও নাটোর শহর আমির আতিকুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে মিছিলটি চকরামপুরের দিকে গেলে পথিমধ্যে একতার মোড়ে পুলিশ মিছিলটিতে বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত নেতারা মিছিলটি নিয়ে আবার হরিশপুরে ফিরে যাওয়ার সময় মিছিলের পেছনে পুলিশ ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষ শুরু হয়।

এ সময় পুলিশের গুলিতে নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস সাবেক ছাত্রশিবির নেতা শামসুল ইসলাম কল্লোল (৪৪) ও জামায়াত কর্মী শাহাবুদ্দিন (৬২) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়াও দলের আরো ১৮ জন নেতা-কর্মী পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হন।

এ সময় জামায়াতকর্মীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম উদ্দিন ও এসআই নুরুজ্জামানসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে থাকায় আশপাশের বাড়ি ও স্কুলেও কাঁদানে গ্যাস পড়েছে। এতে নাটোর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র মোহাম্মদ নূর ও মাহিদ শেখ এবং নবম শ্রেণীর ছাত্র আকাশ বেশি অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, মিছিলে ১৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও নয়টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং জামায়াত-শিবিরের চার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

(123)