নিজের বইতে নিজের ধর্ষিত জীবন!


73020140420152123

দুঃসাহসই দেখিয়েছেন নিউ জার্সির হোলি অস্টিন স্মিথ। ছত্রিশ বছর বয়সী স্মিথ ‘ওয়াকিং প্রে’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটিতে তিনি অতীতে নানাভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা অকপটে তুলে ধরেছেন।

অবশ্য এখন সুখেই আছেন এক সন্তানের এই জননী। তবে ফেলে আসা অতীত এখনো স্মৃতিতে তাজা। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনাগুলো মলাটবন্দি করেছেন।

এই বইতে স্মিথ জানিয়েছেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। নিজের চাচাতো ভাই তার ছেলেমানুষির সুযোগ নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এই কথা বাবা-মাকে বললে তারা উল্টো স্মিথের ঘাড়েই দোষ চাপান। স্মিথকে বাধ্য করা হয় তার সেই চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতে।

স্মিথের সব সময়ই মনে হতো তার বাবা-মা তাকে একটুও ভালবাসে না। ফলে নিজের মতোই জীবন কাটাতে শুরু করেন স্মিথ। তখনই একদিন এক শপিং মলে এক বয়স্ক লোকের সঙ্গে আলাপ হয় তার। নাম গ্রেগ।

গ্রেগের সঙ্গে কথা বলে স্মিথের মনে হয় সে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি। সে কারণে বাবা-মাকে ছেড়ে মাত্র দুসপ্তাহের পরিচিত গ্রেগের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান স্মিথ। তখনও ভাবতে পারেননি আগামী দিনে তার জীবনে কী ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে।

গ্রেগ তাকে ধর্ষণ তো করেই, সঙ্গে অন্য পুরুষকেও লেলিয়ে দেয়। ধর্ষণে বাধা যাতে না দিতে পারে সে কারণে সব সময় মদ ও মাদকদ্রব্য খাওয়ানো হত স্মিথকে। ফলে নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত হতে দেখেও প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকত না তার।

তবে কিছুদিন বাদে স্মিথকে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। এরপর নিজেকে কীভাবে সামলাবেন স্মিথ তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

এইসব দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে বের করে আনতে স্মিথের অনেকদিন সময় লেগেছিল।

স্মিথ জানিয়েছেন, তিনি অনেকদিন পর্যন্ত মনে করতেন তার সঙ্গে যা হয়েছে, সবই তার নিজের দোষে। তবে এখন আর তিনি এসব মনে করেন না। মন শক্ত করে নিজের জীবন নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখন তিনি সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি জনসচেতনতা বাড়ানোর বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন হোলি অস্টিন স্মিথ।

(202)