প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ


 

new_yearপুরাতন বছরের জরা, ক্লান্তি, গ্লানিকে পেছনে ফেলে চির নতুনের ডাক দিয়ে এলো পহেলা বৈশাখ। রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষের উৎসব। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী-পেশা, বয়সনির্বিশেষে সব মানুষ শামিল হয়েছেন বৈশাখী উৎসবে।

সোমবার সকাল ৬টার পর পরই রমনার বটমূলে ছায়ানট আয়োজন করে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এবার তাদের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ‘স্বদেশ ও সমপ্রীতি’।

ভোর থেকেই রাজধানীর চারদিকে আজ সাজ সাজ রব। পথে পথে নেমেছে উৎসবমুখর নগরবাসীর ঢল। চারুকলা, রমনা, টিএসসি লোকে লোকারণ্য। লাল-সাদা পোশাকের সমাহার। বাজছে ঢোল, ডুগডুগি। পথে পথে ভেঁপু। বসেছে লোকজ খেলনা, কারুপণ্যের পসরা। চলছে কেনাকাটা।

রবিবার পশ্চিম দিগন্তে ১৪২০ বঙ্গাব্দের শেষ সূর্য অস্তমিত হয়। নতুন ভোরে নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে নতুন দিন ও বছরের যাত্রা শুরু হয় সকালের সূর্য উঁকি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। এদিকে বর্ষবরণের সকল প্রস্তুতি গতকালই সম্পন্ন হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন নির্বিঘ্‌ন করতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীতে যানবাহন চলাচলসহ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবরের আমলে বৈশাখ থেকে প্রবর্তন হয়েছিল বাংলা সালের। বর্ষ শুরুর সেই দিনটিই এখন বাংলাদেশীদের  প্রাণের উৎসব। বাদশাহ আকবরের নবরত্ন সভার আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজি বাদশাহি খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ফসলি সালের শুরু করেছিলেন হিজরি চান্দ্রবর্ষকে বাংলা সালের সঙ্গে সমন্বয় করে। তিনি পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেছিলেন। আর বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র ‘বিশাখা’র নাম থেকে।

(106)