বরিশালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৩০


 

borishalবরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকায় বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে এ সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাঈম উদ্দিন মিষ্ঠু রম্নপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে গতকাল পটুয়াখালীগামী একটি বাসে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতু পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাস কন্ট্রাকটরকে গাড়ি থামাতে বলে ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু বাস থামানো হয় আরও আধ কিলোমিটার দূরে গিয়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাঈম উদ্দিনকে বাস কন্ট্রাকটর ও হেলপাররা মারধর করে।

তখন ওই ছাত্র তার সহপাঠিদের মোবাইল ফোনে খবর দেয়। এ সংবাদ ক্যাম্পসে জানাজানি হলে শিক্ষীর্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী এবং বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-ভোলা  রুটের সড়ক অবরোধ করে। সকাল ১১ টা থেকে একটা পর্যন্ত চলে অবরোধ। এতে বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পটুয়াখালী এবং বরিশাল-কুয়াকাটা রুটের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের দুই পাশে আটকে পরে অর্ধশত যানবাহন।

এরপর কোতয়ালী থানা পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য বলে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ তুলবে না এমন ঘোষনা দিলে পুলিশ তাদের উপর লাঠি চার্জ করে। এসময় শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।  একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়। এরপর পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ৭ টি টিআরসেল ও ৩৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। এতে আহত হয় শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার গোলাম রউফ খান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকায় বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে এ সংঘর্ষ হয়। তিনি আরো জানান, অর্ধেক ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে বাকবিতান্ডের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শ্রমিকরা। এর জের ধরে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং রাস্তায় ইট বিছিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

গুরুতর আহত নঈমকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাকদ শফিউল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শাখাওয়াত, মোফাজ্জেল, সজল, শিতুল, নাছিম, নেওয়াজ ও শান্তকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

(196)