ব়্যাবের বিরুদ্ধে তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না অনেকেই


 

RAB_newনারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ এবং হত্যার ব্যাপারে ব়্যাবের বিরুদ্ধে তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা৷ তাদের কথা, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনই পারে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করতে৷ব়্যাবের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ছয় কোটি টাকা ঘুস নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগ তদন্তে অন্তত দুটি কমিটি এখন কাজ করছে৷ এর একটি গঠন করা হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে এবং আরেকটি গঠন করেছে ব়্যাব সদর দফতর৷ হাইকোর্টের নির্দেশে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটিতে ব়্যাবের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি৷

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘‘প্রশাসনিক তদন্ত কমিটিতে র্যা বের কাউকে না রাখা একটি ভাল খবর৷ কিন্তু এটি কোনো বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি নয়৷ তাই তারা কতটা প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে৷”তিনি বলেন, অতীতেও এরকম তদন্ত হয়েছে তাতে ব়্যাব সদস্যদের অভিযোগ থেকে বাঁচান ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি৷ তাই স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন ছাড়া অন্য কোনো তদন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তার অভিমত৷ আর তার মতে, ব়্যাবের নিজস্ব তদন্ত অনেক আগেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে৷

তিনি আরো বলেন, ‘‘অপহরণের পর নজরুলের শ্বশুর ব়্যাব অফিসে যাওয়ার পর উলটে তাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়৷ এরপর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে তিন ব়্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ৷ এতেই প্রমাণিত হয় ব়্যাব শুরু থেকেই এই ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত৷ আর সেই ব়্যাব কর্মকর্তাদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি৷ এখনো মামলার এজাহারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কোনো প্রক্রিয়া দৃশ্যমান নয়৷ তাই চলমান তদন্তে কী হবে তা এখন আর কারুর বুঝতে বাকি নেই৷” এমন মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন খান৷

‘প্রশাসনিক তদন্ত কমিটিতে ব়্যাবের কাউকে না রাখা একটি ভাল খবর৷ কিন্তু এটি কোনো বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি নয়৷ ’মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক (তদন্ত) নূর খান বলেন, “ব়্যাবের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ছাড়া আর কোনো তদন্ত কাজে আসবে না৷ কারণ ব়্যাব অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট ও সুপারিশ গ্রহণ করেনি৷ তারা তাদের বক্তব্যেই অবিচল থাকে৷”

তিনি বলেন, “যে সব ব়্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে হত্যার অভিযোগ এসেছে তাদের নিরস্ত্র এবং আইনের আওতায় না এনে কোনো তদন্তই কার্যকর হবে না৷”নূর খান বলেন, ‘‘অভিযোগ আদমজিতে ব়্যাব-১১-র অফিসে বসেই সাতজনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয়৷ আর সেই অফিস তল্লাশি এখন খুবই জরুরি৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না৷ সত্যিই যদি সেখানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, তাহলে তল্লাশিতে দেরি করা হলে আলামত গায়েব হয়ে যেতে পারে৷”

তিনি বলেন, ‘‘শুরু থেকেই এই ঘটনায় ব়্যাব এবং পুলিশের ভূমিকা এবং অপহরণ ও হত্যার ধরণই বলে দেয় এর সঙ্গে সুশৃঙ্খল গ্রুপ জড়িত৷ কোনো সাধারণ অপরাধী গ্রুপের এটা কাজ নয়৷”তবে ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ‘‘তদন্তে কোনো পক্ষপাতিত্ব হবে না৷ তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে ব়্যাব কর্মকর্তারা আইনের আওতায় আসবেন৷”

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণের পর শীতলক্ষ্যায় রাশ পাওয়া যায় ৩০শে এপ্রিল৷ এরপর ৪ঠা মে নজরুলের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জ এলাকার ব়্যাব-১১-র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সৈয়দ তারেক মাহমুদ এবং মেজর জাহাঙ্গির ও মেজর রানা ৬ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা করে৷”

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে মামলা করতে গেলে তারা ব়্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি৷ তিনি মঙ্গলবার অভিযোগ করেন. ‘‘ব়্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তাকে এখন নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷” সূত্র: ডিডব্লিউ

(144)