বাংলাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বাড়াতে ভারতের একগুচ্ছ প্রস্তাব


 

railবাংলাদেশ-ভারত রেলওয়ের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসছে  সোমবার। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ভারত এক গুচ্ছ প্রস্তাবনা পেশ করবে। এরমধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেসে যাতায়াতকে আরো স্বাচ্ছন্দ ও আরামদায়ক করা, পুরানো রেল রুট বিরল-রাধিকাপুর এবং চিলাহাটি-হলদিপুর চালু এবং নতুন রুট আখাউড়া-আগরতলার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়সহ কানেক্টিভিটির প্রস্তাব দেবে ভারত।

ত্রিপুরার প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক সংবাদ রোববার এ খবর দিয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সহযোগিতা বিষয়ক আন্তঃসরকার বৈঠক (আইজিআরএম) সোমবার ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। তিন দিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) শাহ জহিরুল ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন সে দেশের রেলওয়ের বোর্ডের অতিরিক্ত সদস্য (ট্রাফিক) একে মৈত্র। শনিবার ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

হাইকমিশন জানায়, বৈঠকে রেলওয়ে বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতার খাতগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সব কানেকটিভি ও সেবার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। দুই দেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসে চলাচলকে আরো স্বাচ্ছন্দ ও আরামদায়ক করার বিষয় আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে। আলোচনা হবে পুরানো রুট বিরল-রাধিকাপুর এবং চিলাহাটি-হলদিপুর চালু এবং নতুন রুট আখাউড়া-আগরতলার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে। দুই দেশের মধ্যে ট্রেন কনটেইনার চালুর সম্ভাব্যতা নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর দু’দেশের রেলওয়ে বিষয়ক কমিটি সর্বশেষ বৈঠক করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বৈঠকে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে রেলওয়ের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপুরাকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সংযোগ রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি হয়েছে। এবারের ঢাকা বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। ৩৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণে সময় লাগবে দেড় বছর। আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে সম্পূর্ণ ভারতের অনুদানে। ১৫ কিলোমিটার এই রেলপথের মধ্যে ভারতে রয়েছে পাঁচ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশে ১০ কিলোমিটার।

সূত্র জানায়, ঢাকা-আগরতলা সংযোগ রেলপথ স্থাপনের জন্য ১৯৭৭ সালে অধিগ্রহণ করা জমি এ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ঢাকা) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালে কুমিল্লার কসবার (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া) রাজাপুর ও কৌড়াতলীর ৩ দশমিক ২৬ একর ভূমি হুকুমদখল করা হয়।

জেলা প্রশাসক কুমিল্লার পক্ষে স্পেশাল ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অফিসার ওই ভূমি আইওডব্লিউ আখাউড়ার কাছে হস্তান্তর করেন। তবে অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। অধিগ্রহণ করা জমির অবস্থান যাচাই-বাছাই করতে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ অংশের জমি অধিগ্রহণ ও অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার। চারিপাড়া হয়ে আগরতলার ডুকলি রেলস্টেশন পর্যন্ত এ রেললাইন স্থাপন করা হবে।

সীমান্তের স্টেশনের নাম দেয়া হয়েছে নিশ্চিন্তপুর। রেলপথে ট্রেন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আখাউড়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত একটি বাড়তি লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। আগরতলা ও আখাউড়ায় ট্রানজিট ইয়ার্ড এবং বাংলাদেশের আখাউড়া, গঙ্গাসাগর, ইমামবাড়িসহ পাঁচটি স্টেশনের জন্য ব্রড ও মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পটির চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ করে ভারতের নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর)। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অংশের রেলপথ স্থাপনে স্লিপার ও অবকাঠামো নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয় সব মালামাল, যন্ত্রাংশ ভারত থেকে সংগ্রহ করা হবে।

শেখ হাসিনা সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই রেলপথ সংযোগ গুরুত্ব পায়। আখাউড়া থেকে আগরতলার মধ্যে ১৫ কিলোমিটারের এই রেলপথ নির্মাণ হলে ভারতের পূর্ব অংশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের রেলরুটের যেমন সরাসরি লৌহ সংযোগ হবে তেমনি চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও খুব সহজেই দিনে দিনে পণ্য পূর্ব-উত্তরের বড় শহরগুলোতে পৌঁছে যাবে। সেই হিসেবে দুই দেশের তরফ থেকেই আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ করতে জোর দেয়া হয়।

(133)