বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ স্থাপনের তাগিদ


ponkojঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নে মানবিক সংযোগের পাশাপাশি ফিজিক্যাল কানেকটিভি দরকার। এজন্য দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ স্থাপনের তাগিদ দেন তিনি। বলেন, কানেকটিভিটি ছাড়া পাশাপাশি বসবাসকারী দেশগুলোর কারও এককভাবে উন্নতি করা সম্ভব নয়। রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ‘১৯৭১: বাংলাদেশ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত: স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’- শীর্ষক সেমিনারে দেয়া বক্তৃতায় হাইকমিশনার গতকাল এসব কথা বলেন।

দু’দিনের আন্তর্জাতিক ওই সেমিনারের উদ্বোধনীতে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী সেমিনারটির আয়োজন করে। প্রফেসর মুসতাসির মামুনের সভাপতিত্বে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ কামালের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রানজিট চালু করার আগে মনের কানেকটিভি চালু করতে হবে। তার কথার সূত্র ধরে পরবর্তী বক্তা ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নে মানবিক সংযোগ তো বটেই, ফিজিক্যাল কানেটিভিটিও লাগবে। পরস্পরের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

বলেন, নতুন উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। যেটি কারও ক্ষতির কারণ হবে না বরং উভয়ের জন্য হবে লাভজনক। দু’দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত এবং জোরালো হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শরণ বলেছেন, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। বিদ্যমান সুসম্পর্ক বিনষ্ট করতে গোষ্ঠী বিশেষের চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ থাকারও পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পূর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সুসম্পর্ক রয়েছে। কানেকটিভিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের পুরনো অনেক লিঙ্ক রয়েছে।

সেইসব সংযোগ পুনরায় সচল নাকি নতুন সংযোগ চালু করা করলে উভয়ে লাভবান হবে- সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেরা ভারতীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকা- বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ঢাকা-গুয়াহাটি বিমান চলাচল এবং ওই এলাকায় একটি নতুন ‘মিশন’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সভাপতির বক্তৃতায় মুনতাসীর মামুন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে পানি, সীমান্ত সমস্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান জরুরি। ইতিহাসে ভারতকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দু’দেশের রাজনীতিতে অসামপ্রদায়িক  চেতনার আরও বেশি লালন হওয়া প্রয়োজন। উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩টি কর্ম অধিবেশন হয়।

‘ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’- সেশনে সভাপতিত্ব করেন- ভারতীয় শিক্ষবিদ প্রফেসর কৈলাশ সি বড়াল। বক্তৃতা করেন- মহাদেব চক্রবর্তী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও কলামনিস্ট শাহরিয়ার কবির। দুপুরে ‘মৈত্রী ও বন্ধন’ শীর্ষক সেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা করেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বক্তৃতা করেন চৌধুরী শহীদ কাদের, স্বদেশ রায়, পশ্চিমবঙ্গের ড. কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ড. অমিয় চৌধুরী। বিকালের ‘দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক’ সেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর হারুন অর রশিদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। বক্তৃতা করেন প্রফেসর মোহাম্মদ সেলিম, মেঘালয়ের আরজুমান আরা, অসম-এর অনন্ত কালিতা প্রমুখ।সূত্র:মানবজমিন

(135)