বিজেপির বাংলাদেশের ভূখণ্ড দাবি সার্বভৌমত্বে চরম হুমকি: ফখরুল


 

fakhrulবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামী বাংলাদেশের ভূখণ্ড দাবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই দাবিতে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে ফখরুল এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হযেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামী শুক্রবার আসামের গৌহাটিতে একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কাছে এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি করেন। তিনি দেশ ভাগের পর সাবেক পূর্ব-পাকিস্তান থেকে এক তৃতীয়াংশ মুসলমান ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিতে বাংলাদেশের কাছে দাবি জানান। শনিবার আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গের ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত। ওইদিনই নতুন বার্তা ডটকম এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে দেশের মানুষ বিস্মিত ও আতঙ্কিত হন।

বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুব্রামনিয়াম স্বামী কর্তৃক বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি শুধু ধৃষ্টতাপূর্ণই নয় বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম হুমকি প্রদর্শন।”

তিনি বলেন, “যারা দিবাস্বপ্ন দেখেন তারাই এ ধরনের সর্বনাশা কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করতে পারেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশ ভারতের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে বন্ধুত্ব চায়, আস্ফালন নয়। বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ, সৌজন্যমূলক, সমতা ও সামঞ্জস্যবোধসম্পন্ন বক্তব্য আশা রাখে। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের রাজনীতিবিদরা যদি আশেপাশের দেশগুলোর অভিভাবক ভাবেন তাহলে তারা মূর্খের স্বর্গেই বাস করছেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “ভারতীয় রাজনীতিবিদদের এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য আঞ্চলিক সহাবস্থান, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে। ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক হবে সুদূরপরাহত। যে জাতি স্বাধীনতার জন্য রক্তসাগর পাড়ি দিতে পারে সেই বাংলাদেশী জাতি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নির্দ্বিধায় আত্মোৎসর্গ যে করতে পারে তা এদেশের দীর্ঘ ইতিহাসে নানা অধ্যায়ে ভাস্বর হয়ে আছে। দেশের অখণ্ড ভূখণ্ড রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে বাংলাদেশীরা উদ্দীপ্ত, বদ্ধপরিকর।”

মির্জা আলমগীর বলেন, “বরাবরই সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামীর মতো ভারতীয় রাজনীতিকরা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন উপলব্ধি করতে পারেনি। বহু মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াই সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দেশ বাংলাদেশ, এই দেশের অঙ্গচ্ছেদ করতে এলে এর পরিণতি কী হতে পারে সেটি তারা বাংলাদেশের অম্লান ইতিহাস পাঠ করলেই জানতে পারবে।”

তিনি বলেন, “সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামীর বক্তব্য উস্কানিদানকারী, দায়িত্বজ্ঞানহীন।”

তিনি সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে-অতি দর্পে লঙ্কাহত। যে সব দেশের নেতারা কথায় কথায় অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করতে হুমকি-ধামকি ও অবজ্ঞা তাচ্ছিল্য করে সেই সব দেশেও শান্তি ও নিরাপত্তা কখনোই নির্বিঘœ ও নিশ্চিন্ত থাকে না।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রত্যয়দৃঢ় কন্ঠে বলেন, “অহমিকা ও লঘু বীরত্বের হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বশেষ রক্তবিন্দু দিতে অনঢ়, অচঞ্চল ও অনম্য থাকার অফুরান শক্তি ও প্রেরণার কোনো কমতি নেই।”

(117)