“মরদেহ ডোবাতে নাভির নিচে ফুটো করা হয়”


rabনারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর পরই তাদের মাথায় আঘাত করা হয়। তারপর তাদের গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে— ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর কাছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক বোর্ডের প্রধান নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক মো.আসাদুজ্জামান মিয়া।

হত্যার পর মৃতদেহ যাতে ভেসে উঠতে না পারে সেজন্য নাভির নিচে ফুটো করে দেয়া হয়। এসব হত্যার ঘটনায় এটাই প্রমাণিত যে খুনিরা পেশাদার, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা.দুলাল চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবেদনে ৫ জনকে প্রায় একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৫ জনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে প্রত্যেকের শরীর ফুলে গিয়েছিল, মৃতদেহগুলোর মাথায় আঘাতের এবং তাদের গলায় দড়ি পেচিয়ে যে শ্বাসরোধ করা হয়েছে তার ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ৩০ এপ্রিল রাত থেকে আজ সকালের মধ্যে সাত জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত করার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন একটি বন্দর থানায় ও অপরটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, দক্ষ পেশাদার ও প্রশিক্ষিত লোকজন ছাড়া এমন হত্যাকাণ্ড সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল (রোববার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র-২ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নজরুল ইসলাম ওরফে গোঁয়ার নজরুল ও তার চার সহযোগীকে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারসহ র্যা বের পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও নিখোঁজ হন।

পরে বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নজরুল ইসলামসহ ৬ জনের হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আরো একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়।

(134)