মাহির গোপন বিয়ে!


mahiya-mahiবর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি গোপনে বিয়ে করেছেন। এমন রটনা তার ফিল্ম ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চাউর ছিল। আর মাহি খবরটি বরাবরই অস্বীকার এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু খবরটি জোরালো করেছেন পুলিশের হাতে আটক চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও শীষ মনোয়ার। আজ একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পুলিশ রিমান্ডে শীষ মনোয়ার স্বীকার করেছেন মাহির সঙ্গে জাজের স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজের গোপনে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক আবু বকর সবুজের সঙ্গে মাহির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা আবদুল আজিজ জানতে পেরে সবুজের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাছাড়া অফিসের হিসেবে গরমিল থাকার কারণেও ওই হিসাবরক্ষকের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন আজিজ। সে কারণেই সবুজকে গুম করে থাকতে পারেন আজিজ।

এ ব্যাপারে আবদুল আজিজের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মাহিকে বিয়ে এবং সবুজকে গুমের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়া পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। শীষ মনোয়ার আমার অফিসের একজন কর্মকর্তা হয়ে পুলিশের কাছে এ ধরনের অসত্য কথা বলবেন তা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। কারণ কোনো প্রযোজনা সংস্থা যদি কোনো শিল্পীকে কাজের সুযোগ করে দেয় তাহলে তার অর্থ এই নয়, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়া বা তাকে বিয়ে করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের দুঃসময়ে আমি এ শিল্পকে রক্ষার জন্য এসেছি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সিনেমা হলে ডিজিটাল প্রজেক্টর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রেক্ষাগৃহবিমুখ দর্শকদের আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে এনেছি। এখনো নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আসলে এ সফলতায় শুরু থেকেই কোনো কোনো মহল আমার প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে এবং মাহিকে বিয়ের গুজবসহ নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। বর্তমানে সবুজকে গুম এবং মাহিকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার তারই অংশ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অচিরেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করব। মাহি বলেন, সবই মিথ্যে এবং গুজব। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না শীষ মনোয়ার এ ধরনের মিথ্যে কথা কেন বলবেন। জাজ মাল্টিমিডিয়া আমাকে চলচ্চিত্রে এনেছে এবং তারা আমাকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাইয়ে দিয়েছে। শুরু থেকেই এ বিষয়টি অনেকে বাঁকা চোখে দেখতে থাকে এবং আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। আমি মনে করি আজকের ঘটনাও এ ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আবদুল আজিজ বিবাহিত লোক। তার সঙ্গে আমাকে জড়ানো উচিত নয়। কারণ নায়িকা হলেও সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে আমার মানসম্মান রয়েছে। তাছাড়া সবুজ জাজের কর্মকর্তা হিসেবে আমার কলিগ। তারও সংসার আছে। অহেতুক তার সঙ্গে জড়ানো মানে আমাকে বিপদে ফেলারই নামান্তর।

মাহি বলেন, আমি জাজের প্রায় সব ছবিরই নায়িকা। এ বিষয়টিও চলচ্চিত্রের অনেকে ভালো চোখে দেখে না। তাই আজ আমার বিরুদ্ধে অনেকে উঠেপড়ে লেগেছে। এর আগেও সংবাদপত্রে আমার বিরুদ্ধে নানা রসালো সংবাদ পরিবেশন করানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনাই ষড়যন্ত্রকারীরা সত্যি বলে প্রমাণ করতে পারেনি। তাছাড়া গত দুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে আমাকে নাকি পুলিশ খুঁজছে এবং আমি নাকি পলাতক। অথচ কয়েক দিন ধরে আমি এফডিসি ও হাতিরঝিলে সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘বিগ ব্রাদার’ ছবির একটানা শুটিংয়ে  অংশ নিচ্ছি।

এদিকে ফিল্মপাড়ার লোকজন বলছে, জাজ মাল্টিমিডিয়া চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু থেকেই নানা ঘটনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছে। শাকিব খান এবং সায়মানকে মারধর, সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন ও যুগান্তরের বিনোদন সাংবাদিক এফআই দীপুকে হত্যার হুমকি, অফিসের সামনে মানুষ খুন, সিনেমা হলে সিনেমা প্রজেক্টরের বদলে ভিডিও প্রজেক্টর স্থাপন করে হল মালিক ও দর্শকদের ধোঁকা দেওয়া, চলচ্চিত্র মুক্তি নিয়ে অন্য নির্মাতাদের জিম্মি করা, প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও প্রযোজকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের ভাড়া নেওয়ার পর আবার টিকিট থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়াসহ নানা হয়রানি করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। শাকিব খানকে মারধর ও মানুষ খুনের ঘটনায় জাজের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তারপরও চলচ্চিত্র ও প্রেক্ষাগৃহের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন চলচ্চিত্রকাররা।

মিরপুর মডেল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শীষ মনোয়ারের মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম বলেন, শীষ মনোয়ারকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া মামলাটি যেহেতু তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে তাই রিমান্ডে তার স্বীকারোক্তি বা মামলা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়ার বিধান আইনে নেই।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার হিসাবরক্ষক আবু বকর সবুজ মিরপুরের বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে ২৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। এরপর সবুজের বাবা প্রথমে রমনা থানায় একটি জিডি করেন। পরে সবুজের স্ত্রী সানজিদা জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজ, সিইও শীষ মনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে মিরপুর মডেল থানায় আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ৩ এপ্রিল সকালে মিরপুর থানা পুলিশ মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে শীষ মনোয়ারকে গ্রেফতার করে।

(236)