মেড ইন বাংলাদেশে’র প্রসার চায় যুক্তরাষ্ট্র


RANA_PLAZAবিশ্বব্যাপী ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রসার চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার এবং পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএকে শ্রমিক ‘নিপীড়ন’ বন্ধ এবং প্রতিশ্রুত ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ। রানা প্লাজা ধসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান মেনেনডেজ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিএমইএ শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ওপর দমন-পীড়ন বন্ধে যদি অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে বাংলাদেশের পোশাক খাতে আরও একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ইমেজ নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধারের বাইরে চলে যাবে। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির পরও গার্মেন্টে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও সরকারের পক্ষ থেকে ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘাটতি রয়েছে। ইউএনবি/ বিডিনিউজ।

রানা প্লাজার মর্মান্তিক ধসের বছরপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এই মত দেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রভাবশালী সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের রক্তের ছাপে তৈরি হওয়া পোশাক কিনবে না পশ্চিমা ক্রেতারা। বিজিএমইএকে এই সহজ-সরল বার্তাটি বুঝতেই হবে। অনেকের জন্য রানা প্লাজা দুর্ঘটনা একধরনের সতর্কবার্তা ছিল_ মন্তব্য করে বিবৃতিতে রবার্ট মেনেনডেজ বলেন, ওই দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে দেওয়া কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা স্থগিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার যতদিন না শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, ততদিন পর্যন্ত এসব সুবিধা স্থগিত থাকবে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ইতিহাসের সর্ববৃহৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে কাজ করছে সংস্থাটি।বাংলাদেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবন সুরক্ষিত করতে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মার্কিন এ সিনেটর।

শ্রমিক নেতাদের ওপর মালিকপক্ষের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের বিভিন্ন পক্ষের জন্য গত বছরটিও অন্যান্য বছরের মতোই শুধুই ছিল। শ্রমিকদের স্বার্থ আদায়ের জন্য শ্রমিক নেতারা ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা করায় অনেক পোশাক কারখানার মালিক তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন, এমনকি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কিছু কারখানা ব্যবস্থাপকের প্রত্যক্ষ মদদে ইউনিয়ন সংগঠকদের ওপর বেশ কিছু ঘৃণ্য হামলার ঘটনাও ঘটেছে।’

বিজিএমইএ এখনও আগের মতোই মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষকে নিরাপত্তা দিতে তাদের প্রহরী হয়েই কাজ করে যাচ্ছে বিজিএমইএ। এমনকি সংস্থাটির যেসব সদস্য শ্রমিকদের ইউনিয়নবিরোধী হিসেবে কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারেও বিজিএমইএ উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।’

শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সরকারের মধ্যে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নতুন শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিছুটা অগ্রসর হলেও এখনও তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। ফলে দেশটির শ্রমিক সংগঠনগুলো অত্যন্ত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নে অংশগ্রহণ করলে চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে অনেক শ্রমিকেরই এবং ইউনিয়ন সংগঠকরা এখন নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কিত।’শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে রবার্ট মেনেনডেজ বলেন, ‘একটি স্বাধীন শ্রমিক সংগঠনের শক্তভাবে আওয়াজ তোলার ক্ষমতা না থাকলে শ্রমিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে কোনোভাবেই অগ্রসর হতে পারবেন না। কারখানায় আগুন লাগার কারণগুলো দূর হবে এবং প্রয়োজনে শ্রমিকদের বাইরে বের হওয়ার পথগুলো খোলা থাকবে_ এমনটি নিশ্চিত করা যাবে না। ফাটল ধরা ভবনের পিলার এবং দেয়ালের ফাটলগুলো রঙ দিয়ে ঢেকে দেওয়া নয়_ এমনটাও নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন না তারা।’সূত্রঃ সমকাল

(138)