মোদিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন, মন্তব্য লৌখনোর মাওলানার


image_77040_0

মোদিকে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। রাজনাথ সিং কিন্তু অনেকটাই অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো। ওনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দ্বিধা নেই। মঙ্গলবার সাফ জানালেন লখনৌয়ের শিয়া মাওলানা কালবে জাওয়াদ।

 সম্প্রতি দল ও দলের বাইরে যুগপৎ মোদির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগেই কানপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা বর্ষীয়ান নেতা মুরলীমনোহর যোশি মন্তব্য করেন, দেশে মোদি হাওয়া নয়, বইছে বিজেপি হাওয়া। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীকে ঠেস দেয়া এই মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই উল্লসিত করে মোদির সমালোচকদের। বলা বাহুল্য, এদিন মাওলানার বিবৃতিতে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপি শিবিরে।

 গোধরা কাণ্ডের ছায়া পিছু ছাড়ছে না নরেন্দ্র মোদির। দলীয় প্রচারে যতই ধর্মনিরপেক্ষ মূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করা হোক, মুসলিম সম্প্রদায়ের পূর্ণ বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তিনি কতটা অর্জন করতে পেরেছেন, তা বলবে ভোটের ফলাফল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নে মোদির গ্রহণযোগ্যতা যে তাদের যথেষ্ট ভাবাচ্ছে, তা সরাসরি বলে দিয়ে ফের বিতর্ক সৃষ্টি করলেন মাওলানা। পাশাপাশি রাজনাথ সিংয়ের প্রশস্তি এবং অটলবিহারীর সঙ্গে তুলনা বিষয়টিতে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এদিন মাওলানা জাওয়াদ জানিয়েছেন, মোদিকে ঠেকাতে কোনো ফতোয়া জারি না করলেও, সম্প্রদায়ের বৈঠকে তিনি নিজস্ব বক্তব্য পেশ করতে পিছপা হবেন না।

 মঙ্গলবার মাওলানা কালবে জাওয়াদের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং। এছাড়াও তিনি মাওলানা কালবে সাদিক ও মাওলানা খালিদ রশিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তবে এরপরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সভাপতি জানান, ‘আমি সব ধর্মকেই শ্রদ্ধা করি। তবে কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে তোয়াজ করাও আমার ধাতে নেই। ধর্ম ভাঙিয়ে ভোট চাওয়ায় বিশ্বাস করি না। চাই না এই নিয়ে কোনো রাজনৈতিক ফতোয়া জারি করাও সমর্থন করি না।’

 অন্য দিকে, মুসলিম ধর্মগুরুদের সঙ্গে রাজনাথ সিংয়ের বৈঠককে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মাওলবীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজনাথ সিং। উল্টো দিকে, কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন স্বয়ং শাহি ইমাম। তফাৎটা পরিষ্কার। আর এটাই কি সাম্প্রদায়িকতা নয়?’

 প্রসঙ্গত, ৮০টি লোকসভা আসন সমৃদ্ধ উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটারের ১৮ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। শুধুমাত্র লখনৌ শহরেই ১.৮ লক্ষ শিয়া মুসলিমের বাস। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের ভোটের দিকে নজর কংগ্রেস-বিজেপি দুই পক্ষেরই।– ওয়েবসাইট

(116)