যুগ্ম মহাসচিব হচ্ছেন ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস!


eliyasবিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হচ্ছেন দীর্ঘ দু’বছর ধরে ‘নিখোঁজ’ এম ইলিয়াস আলী। ২০০৯ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে তাকে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল। আগামী কাউন্সিলেই ইলিয়াসকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগেই বর্তমান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবনকে পূর্ণ সাংগঠনিকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় ডা. জীবনকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে হঠাৎ ইলিয়াসকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলেট বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সিলেট বিএনপির অনেকেই মনে করছেন, ইলিয়াসকে সরিয়ে দিলে তাকে ‘ফিরে পাওয়ার আন্দোলন’ ব্যাহত হবে। এমনকি সরকার ইলিয়াসকে ‘গুম’ করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবে দলের শীর্ষ পর্যায়ের মতে, সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় সিলেট অঞ্চলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনে উন্নতি হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি বলে মনে করেন তারা। এজন্য দলকে চাঙ্গা করতে ডা. জীবনকে সাংগঠনিকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলন অব্যাহত রাখতে ইলিয়াসকে পরবর্তী কাউন্সিলে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতা।

ওই নেতা সমকালকে বলেন, ইলিয়াসের অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের সভায় ডা. জীবনকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতার এমন প্রস্তাবের পর চেয়ারপারসন নিজে তাকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন। দু’একদিনের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখনও লিখিতভাবে কিছু না জানলেও ডা. জীবন নিজে এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনেছেন বলে সমকালকে জানান। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী আমার নেতা; তাকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন চলছে। এ অবস্থায় দলের প্রয়োজনে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও হাইকমান্ড নিশ্চয় তাকেও মূল্যায়ন করবে।

সিলেট বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করেন, এভাবে হঠাৎ করে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো মানে নেই। এতে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হবে উল্লেখ করে তাদের মতে দলের আগামী কাউন্সিলে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দলের হাইকমান্ড থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতেও পারছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে অচিরেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। এর অংশ হিসেবে ১৫ এপ্রিল সিলেট জেলা ও উপজেলার নেতাদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। এদিন দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতা ও সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ।

ইলিয়াস নিখোঁজের দু’বছরে বিক্ষোভ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি ইলিয়াস আলী নিখোঁজের দুই বছরপূর্তি ও তাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে আগামী ১৭ এপ্রিল কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও ১৮ এপ্রিল হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মাজার মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল রয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে নগরীর মীরাবাজার অস্থায়ী কার্যালয়ে ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি, ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ মকসুদ আলীর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামালের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক, সোনা মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার আহমদ, প্রচার সম্পাদক আনহার মিয়া, মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াছেহ চৌধুরী জুবের, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন লস্কর, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মঈনুল হক প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বাসায় ফেরার পথে ইলিয়াস আলী তার গাড়ির চালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন।সূত্রঃ সমকাল

(127)