রানা প্লাজা ট্রাডেজি: দুই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যর্থ পুলিশ


rana_plazaরানা প্লাজা ট্রাডেজি দুই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ব্যর্থ পুলিশএকবছর পেরিয়ে গেলেও সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দুই মামলার কোনোটিরই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) দাবি, তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে এবং তারা মে মাসের মধ্যেই চার্জশিট জমা দিতে পারবেন। মামলার ধরন ও গুরুত্বের কারণেই সময় লাগছে বেশি।

সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, আসামি করা হয়েছে ভবন মালিক সোহেল রানা, কারখানা মালিক ও রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে। তদন্তে তাদের অবহেলা-দায়িত্বহীনতা, প্রতারণা ও সীমাহীন মুনাফাভোগের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর কেটে গেছে একটি বছর। এ দুর্ঘটনায় পর পরই দুটি মামলা হয়। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করে সাভার থানা পুলিশ। অপর মামলাটি করে রাজধানি উন্নয়ন কর্তপক্ষ (রাজউক) ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লংঘনের অভিযোগে। গ্রেপ্তার করা হয় ভবন মালিক সোহেল রানা, ৫টি পোশাক শিল্প কারখানার চার মালিক ও তিন প্রকৌশলীকে। তবে এখন রানা ছাড়া সবাই আছেন জামিনে।

কেনো দেয়া হলো না মামলার তদন্ত প্রতিবেদন? জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বলেন, ‘এ মামলা জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আমরা সেটাকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্তটি করেছি। ফাটল হওয়ার আগে কি পর্যায়ে ছিলো এবং পরে কি অবস্থায় আছে এ দুটো মূলত বিভক্তি আছে। তদন্তটি বহুদাবি বিভিক্ত, এর বিস্তৃতি অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে একটি ঘটনা বলে মনে হতে পারে, তবে তদন্তের ক্ষেত্রে গিয়ে এর মূল শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সে কারণে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে এসে একটি জায়গায় এনে আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার জন্যই আমরা এ সময়টুকু নিলাম।’

পুলিশের এ উধ্বর্তন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার শেকড় অনেক গভীরে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অবহেলা, প্রতারণা আর দায়িত্বহীনতার জন্যই এতগুলো প্রাণ ঝড়েছে। তদন্তে এসব বিষয়ই উঠে এসেছে এবং প্রতিবেদনও দেয়া হবে সহসাই বলেও জানান তিনি।

মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ইমারতের মামলা তো একেবারেই শেষ পর্যায়ে। আর রানা প্লাজার তদন্ত আমরা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। বহিরাঙ্গনের যে কাজগুলো তদন্তের ক্ষেত্রে সেগুলো একবারেই শেষ করেছি। ঘরের বাইরে আমাদের এখন আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মামলা তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আর বেশি সময় লাগার কথা নয়। একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ না বলাটাই বাঞ্চনীয়। আমি বলতে চাই যত শীঘ্রই সম্ভব আমরা এর একটা সমাধান করতে পারবো।’

জানা গেছে মামলা দুটিতে ৫০ জনেরও বেশি আসামি হতে পারেন।

(102)