রানা প্লাজা মালিকের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত


 

ranaরানা প্লাজার মালিক মো. সোহেল রানার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক সৈয়দ ইউসুফ হারুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।গত বছর ৩০ এপ্রিল সোহেল রানার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তর বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছিল। এ রিটের আদেশে বলা হয়েছে রানা প্লাজার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক।হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পত্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলো হচ্ছে সাভারের রানা প্লাজার ১৮ শতক, রানা কমপ্লেক্সের ১০ শতক ও ধামরাই থানা এলাকাধীন ১৪৭ শতক।এরপরে যদি আরও কোনো সম্পত্তি পাওয়া যায় তাহলে সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করবে সরকার।

জেলা প্রশাসক ইউসুফ হারুন জানান, গত বছরের ৩০ এপ্রিল একজন ব্যক্তি রানা প্লাজা ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ওই রিটে হাইকোর্ট একটি মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোহেল রানার সম্পত্তি খুঁজে বের করে জেলা প্রকাশককে তা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক একটি বিবিধ মামলা করে সোহেল রানার স্থাবর সম্পত্তি খুঁজে বের করে তা বাজেয়াপ্ত করেন।জেলা প্রশাসক জানান, ওই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি যাতে কেউ ক্রয় বা বন্ধক গ্রহণ না করেন, এ জন্য জাতীয় দৈনিকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় এক হাজার ১৩৪ জন নিহত ও প্রায় দুই হাজার জন আহত হন।ভবনধসের পর মোট পাঁচটি মামলা হয়। এর মধ্যে তিনটি ভবনধসের ঘটনায়। অন্য দুটি মামলা অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে শুধু সোহেল রানার বিরুদ্ধে। ভবনধসের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার।

মামলাগুলোয় এ পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি সিআইডি। তবে এর মধ্যে প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্পদুর্ঘটনার ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ২১ আসামিদের মধ্যে রানা প্লাজার মালিক যুবলীগের নেতা সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে খালেক কুলুসহ আটজন জামিনে আছেন ।

জামিনে মুক্ত হওয়া অন্য আসামিরা হলেন, সাভার পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র ও সাভার পৌর বিএনপির সভাপতি রেফাতউল্লাহ, সোহেল রানাকে যশোরে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তাকারী অনিল দাস, শাহ আলম ও আবুল হাসান, রানা প্লাজার অনুমোদন ও নির্মাণ-প্রক্রিয়া তদারকের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এমতেমাম হোসেন, রানা প্লাজার নকশা অনুমোদনের জন্য সুপারিশকারী সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও পৌরসভা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খান।

(138)