রাবিতে ছাত্রলীগের ২ নেতাকর্মীর রগকর্তন


rabiরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কুপিয়ে এক ছাত্রলীগের কর্মীর ডান পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া আরেক ছাত্রলীগ নেতার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা  ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ জনকে আটক করা হয়েছ।

 ছাত্রলীগ দাবি করেছে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বর আহত সালেহ মো. টগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক। তিনি ফোকলোর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর ছাত্রলীগকর্মী আবদুল্লাহেল মাসুদ ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ক্যাম্পাস সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে মাদার বখশ হল থেকে বের হন টগর ও মাসুদ। তাদের বহনকারী রিকশাটি জিয়াউর রহমান হল ও শহীদ হবিবুর রহমান রহমান হলের মাঝামাঝি জায়গায় আসলে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের রিকশা লক্ষ্য করে দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় টগর ও মাসুদ রিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা মাসুদকে ধরে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা মাসুদের ডান পায়ের গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সময়ে টগরকে রাস্তার একপাশে ফেলে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আশোপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. বি কে দাম বলেন, “মাসুদের ডান পা গোড়ালি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাম পায়ের গোড়ালি চামড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল। ডান হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত মারাত্বকভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। দুই হাতেরই রগ কেটে গেছে। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। তাকে চার ব্যাগ রক্ত দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।”
টগরের দুই হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “টগরের অবস্থা মাসুদের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত নন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদ আল হোসেন সমকালকে বলেন, “রাবিতে শিবিরবিরোধী কর্মকাণ্ডে এই দুইজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কয়েকদিন আগে রাবি শিবিরের সভাপতি দুইজনের নাম উল্লেখ করে আমাকে হুমকি দিয়েছিল। তারাই এ হামলা চালিয়েছে।”
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, “জামায়াত-শিবির এ হামলা চালিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।”

(135)