রূপগঞ্জের ইয়াবা খদ্দের সুন্দরীরা


beautyরূপগঞ্জের অনেক প্রতিষ্ঠিত ঘরের সুন্দরী তরণীরা স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য, নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন এক-দুটি করে ইয়াবা সেবন করে থাকেন। অনেক অভিভাবক প্রাথমিকভাবে এতে সায় দিলেও পরে নেশায় জড়িয়ে পড়া এসব তরুণ- তরুণীকে  চিকিৎসা করাচ্ছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে। গত এক মাসে থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ হাজার ৮শ’ ৯৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে ১১টি। এর মধ্যে অধিকাংশ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে রূপগঞ্জে মাদকের স্বর্গখ্যাত চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র, তারাব, নোয়াপাড়া, রূপসী, গন্ধর্বপুর, বরপা, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও গোলাকান্দা এলাকা থেকে। দেশের বিভিন্ন পথে মাদকের চালান ঢোকে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। এখান থেকেই ইয়াবার চালান যায় ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে।

একটি সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্ত এলাকার নারী-পুরুষ মাদক ব্যবসার সুবিধার্থে এ এলাকায় নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় চাকরি করেন। আর এ সুযোগে রূপগঞ্জের মাদক সম্রাটরা ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সম্রাটরা ইয়াবা ব্যবসা চালাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ব্যবসায় কোমলমতি ছেলেমেয়েদের প্রলোভনে ফেলে জড়িত করছেন। বহন সহজলভ্য ও আকারে ছোট হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে অনায়াসে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে ইয়াবা। বিক্রেতারা ইয়াবাকে নানা নামে বিক্রি করছেন। কখনও বাবা, কখনও গার্ডিয়ান, কখনও বিচি, কখনওবা চম্পা নামে।

থানা সূত্রে জানা যায়, এসব কাজে জড়িত চনপাড়া এলাকার বজলু মেম্বারের ভাই মিজু, মোশারফ হোসেন মোসা, শমসের, আনোয়ার, রানী, রশনী, ইব্রাহিম ডাকাতের ছেলে ইউসুফ, আক্তার, শাহাবুদ্দিন, খোরশেদ, বদ্দা, চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা, সাইমুন, বিলকিস, পুতুল (রফিকের মা), আলী আহম্মদ, ইছাক, বাদশা মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেত্রী শিরিনা, যুবলীগ নেতা আলফু, পান্না মিয়া, সাইফুল আলম, গোলাম মস্তফা, যতি বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমজাদ হোসেনের ছেলে বাবু, নূর ইসলামের ছেলে আলী হোসেন, গোলাম রহমানের ছেলে চিশতি হাসান, কহিনূর আক্তার কহি, মুস্তাফা, শাওন, মতুর স্ত্রী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজমা, বাহী, জামাল, চাঁন মিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা ঝান্টু, দুদু মিয়া, কাশেম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিটন, জসিম, আরব আলী, মুস্তফা, রফিকুল, শফিকুল, রতন, পারভীন, খলিল, আরব আলী, খোকা, ফারুক, জালাল, আলম, তারাব এলাকার সূর্যী বেগম, বরিশাইলা আজম, হাটিপাড়ার মৃত বলাইর ছেলে ফরিদ, রূপসী কাজীপাড়ার জসিম, রূপসীর জামাই রফিক, নোয়াপাড়ার ইব্রাহিম, ছোবরা, রবপা এলাকার ছমির আলীর ছেলে শামীম, রুহুল শিকদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন, তোবারকের ছেলে নাহিদ, বরাব এলাকার মন্টু, মাসাব এলাকার মুকু, আলমগীর, কান্দাপাড়ার আওলাদ, ঐরাব এলাকার খালেকের আলম, বাবুর ছেলে সুজন, কাঞ্চনের কলুপাড়া নাঈম ও মানিক, বাগানবাড়ী করাটিয়ার জাহাঙ্গীর, হুন্ডা আবু, চান টেক্সটাইলের ইকবাল বোগা, করাটিয়ার জামাই ছোলাইমান, হাটাব টেকপাড়ার গাফফার, জাঙ্গীর আলম, হাটাব আতলাপুরের সাদেক, মুড়াপাড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকার সাইদুল, মুড়াপাড়া বেবিস্ট্যান্ডের মনির, মঙ্গলখালী মসজিদ সংলগ্ন এলাকার নয়ন সম্রাট, নগরী হিরণ, নাসিংগল টাইগার ও বোলা, মঙ্গলখালীর সেলিম, ভাগিনা ফারুক ও রবিউল্যা, নুর ম্যানসনের মনির ওরফে ডেঙ্গু মনির, গাউছিয়ার আরব, গোলাকান্দাইলের তোতা ও দুলাল, গোলাকান্দালই উত্তরপাড়া দুলালের বউ শহিতুন, সাওঘাটের স্বপন, জিন্নাত আলী ও কাকা সেলিমের প্রধান সহযোগী সহিদ ও তার স্ত্রী, কাঁচপুরের সাবেক চেয়ারম্যানের নাতি মোমেন, মুড়াপাড়ার গোলজার, পাড়াগাঁওয়ের বাপ্পি, বাইলা মিয়ার বাড়ির ফারুক, বরাব রসুলপুরের বাহার আলী (কলিজা) ও তার স্ত্রী সেলিনা, মন্টু, আমলাবোর আনোয়ার, বাবু, সাওঘাট এলাকার জামাই রফিক, পাপোছা, বাগলার রফিক, কামসাইরের রমজান, ব্রাহ্মণগাঁয়ের বাগু, মৈকুলীর শ্যামল ওরফে স্বপন, বাড়িছনীর খোরশেদসহ আরও অনেকে।

আর এসব কারণে রূপগঞ্জে বেড়েছে  ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধ। মাদকের টাকা যোগাতে অনেক ভদ্রঘরের ছেলেমেয়েরা বাড়ির গহনাঘাটি, টাকা-পয়সা চুরি করেও ক্ষান্ত হচ্ছে না। অনেক সময় অভিভাবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে নিচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জেলে পাঠাতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসে র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ ৪৪টি মামলা নিয়েছে ইয়াবা ব্যবসীয়েদের বিরুদ্ধে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা। আটক করেছে ২৯ জনকে। বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি গ্রামে ইয়াবার নীল নেশার থাবায় অভিভাবকরা তদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। তারাব পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম বলেন, এসব হায়েনার কবল থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে পারছেন না অভিভাবকরা। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের কাছে তালিকা দিয়েও পায়নি কোন প্রতিকার। মাঝে মধ্যে এসব মাদক ব্যবসায়ীকে ডিবি ও র‌্যাব গ্রেপ্তার করলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও চমকপ্রথ তথ্য। ধনী পরিবারের দুলালীরা (তরুণী ) নিজেদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে। মোটা হওয়ার ভয়ে এসব তরুণী সেবন করছেন ইয়াবা। প্রথম প্রথম স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য ইয়াবা সেবন করে পরে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রেমে ব্যর্থ অনেক তরুণী ইয়াবা নেশায়ও জড়িয়ে পড়েছে। রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার শীর্ষস্থানীয় জনৈক শিল্পপতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কন্যা স্বাস্থ্য সচেতনতায় ইয়াবা সেবন করে একপর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে দেশের দামি একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো হয় তাকে। ভাল হওয়ার কিছুদিন পর আবার তিনি নেশায় জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার মতো অসংখ্য ধনী ঘরের তরুণীরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মীর বলেন, এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একাধিক বার অনেকে ধরাও পড়েছে। শিগগিরই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে। কেউ ছাড় পাবে না।সুত্রঃমানবজমিন

(358)