র‌্যাবের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন


rabনারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‌্যাব জড়িত—এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান।

নজরুলসহ ৭ জনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব জড়িত এবং তারা ৬ কোটি টাকা নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে- রোববার নজরুলের শ্বশুর গণমাধ্যমে এ বক্তব্য দেয়ার পর এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে কমিটি গঠন করল তারা।

হাবিবুর রহমান জানান, ‘যেহেতু র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাই র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডিআইজি আফতাব উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

র‌্যাব সদস্যরা সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন— এ অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ বাহিনীর নিজস্ব পোশাক ছাড়া তারা দায়িত্ব পালন করেন না।

গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‌্যাব নিজেদের মতো করে ছায়াতদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

র‌্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‌্যাব জড়িত বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে— তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অনতিবিলম্বে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল (রোববার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র-২ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নজরুল ইসলাম ওরফে গোঁয়ার নজরুল ও তার চার সহযোগীকে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারসহ র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও নিখোঁজ হন।

পরে বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নজরুল ইসলামসহ ৬ জনের হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আরো একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়।

(159)