শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে : রাষ্ট্রপতি


1920140412175832

আজকের শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে তাদেরকেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই তারা দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

রাজশাহীর বাগমারায় শনিবার দুপুরে উপজেলার ভবানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট এবং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর ইতিহাস সুপ্রাচীন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।

 তিনি বলেন, আজ ১২ এপ্রিল। ১৯৭১-এর এই দিনে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবি সিদ্দিকীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন। আমি এসব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

 মুক্তিযুদ্ধ চলকালে মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় অন্য নেতাদের সঙ্গে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

 স্থানীয় সাংসদ এনামুল হকের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলের বর্তমান প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারবে। জানতে পারবে এ দেশের সঠিক ইতিহাস।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সালেহা ইমারত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।

 এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১০ জন গুণি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরা হলেন- স্বাস্থ্যে ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, কৃষিতে ব্রজেন কুমার প্রামাণিক, বনায়নে মোল্লা আলতাফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধে নুরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে শিল্পী এমএ খালেক, নারী শিক্ষায় শিরীন আখতার, শিক্ষায় আব্দুল জলিল (মরণোত্তর), রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাবু রাখাল চন্দ্র দাস (মরণোত্তর), শান্তি-শৃঙ্খলায় বাগমারা থানা ও প্রতিষ্ঠান বাগমারা প্রেসক্লাব। সংবর্ধিতদের ক্রেস্ট ও ২০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রয়াত ব্যক্তিদের পক্ষে তাদের নিকটাত্মীয়রা পুরষ্কার গ্রহণ করেন।

 স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাংসদ শাহরিয়ার আলম, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আখতার জাহান, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী- ১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৪ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের সাংসদ আবদুল ওদুদ দারা, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন এবং বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স ও সালেহা ইমারত মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেন।

 এর আগে বেলা ১২টার দিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হেলিকপ্টার থেকে উত্তর একডালা হেলিপ্যাডে নামেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

(133)