শিগগির খুলে যাচ্ছে সৌদির শ্রমবাজার


visa_morningsunbdচলতি বছরের মাঝামাঝি খুলে যাচ্ছে সৌদি আরবের শ্রমবাজার। গত পাঁচ বছর সৌদির শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। বিদেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সৌদি আরব সফর উপলক্ষে এ ঘোষণা আসতে পারে- এমনটিই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা । সৌদির শ্রমবাজার বন্ধের পর থেকে তা পুনরায় চালুর জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ । প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগির সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি সৌদি সরকারের কাছে সফরের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের সময়েই বাংলাদেশের জন্য সৌদি শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেবে সৌদি আরব। ২০০৯ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী সরকারিভাবে সর্বশেষ সৌদি আরব সফর করেন। তবে ওমরাহ পালনের জন্য গত নভেম্বরেও তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সৌদি আরব সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি বলে তিনি জানান । তিনি আরো বলেন, সৌদি শ্রমবাজার খুলে গেলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। বর্তমানে সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি ১২ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। ২০০৯ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশি জনশক্তি নেওয়া বন্ধ রেখেছে। বন্ধ এই বাজার শিগগির খুলে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

জনশক্তি ও  কর্মসংস্থান সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরো একটি দেশ কুয়েতের শ্রমবাজার খুলে গেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে সৌদি আরবের শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার জন্য দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতা চলে আসছে। এরই মধ্যে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও আছে। গত বছরের ১১ মে থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে।

ওই সুযোগে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বৈধতা পেয়েছেন। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সৌদি সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা পরিবর্তনেরও সুযোগ দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ লাভ করেছেন, যা তাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে কর্মসংস্থার ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামছুন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের এপ্রিলে সৌদি সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। সে সময় তারা বাংলাদেশে শ্রমিক বাছাই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। সৌদি প্রতিনিধিদলটি এমআরপি পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের ভূমিকাও সরেজমিনে দেখেন।

তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধিদলটি ফিরে গিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ায় সৌদি সরকার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি বা বায়রার  একজন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছরে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি কিছুদিন আগে ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। কুয়েতের শ্রমবাজার চালু হলেও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার  সুযোগ কম। সৌদি শ্রমবাজার চালু হলে সামনে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক নির্মাণশ্রমিক পাঠানো যাবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ রেখেছে। ২০০৮ সালে যেখানে ১ লাখ ৩২ হাজার ১২৪ জন কর্মী যান, সেখানে ২০০৯-এ ১৪ হাজার ৬৬৬, ২০১০-এ ৭ হাজার ৬৯, ২০১১ সালে ১৫ হাজার ৩৯, ২০১২ সালে ২১ হাজার ২৩২ এবং ২০১৩ সালে ১২ হাজার ৬৫৪ জন কর্মী সৌদি আরব যান। এসব কর্মীর বেশির ভাগই গেছেন ব্যক্তিগত ভিসায়।

(168)