শেরেবাংলার ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


shere_bangla_morningsunbdআজ রোববার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

তার পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক সংক্ষেপে এ কে ফজলুল হক। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ এবং সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র ছেলে।

এ কে ফজলুল হকের প্রাথমিক শিক্ষা বাড়িতেই শুরু হয়। পরে তিনি পাঠশালায় ভর্তি হয়েছিলেন। গৃহশিক্ষকদের কাছে তিনি আরবি, ফার্সি এবং বাংলা ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৮১ সালে তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৮৮৬ সালে অষ্টম শ্রেণীতে তিনি বৃত্তি লাভ করেন এবং ১৮৮৯ সালে ফজলুল হক প্রবেশিকা পরীক্ষায় তৎকালীন ঢাকা বিভাগে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেন।

ফজলুল হক তার প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে শিক্ষকদের খুবই স্নেহভাজন ছিলেন। প্রবেশিকা পাস করার পর উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি কলকাতায় গমন করেন। ১৮৯১ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। সে সময় প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। নিজের মেধার বলে ফজলুল হক প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এফ এ পাস করার পর তিনি গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় অনার্সসহ একই কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৮৯৩ সালে তিনি তিনটি বিষয়ে অনার্সসহ প্রথম শ্রেণীতে বিএ পাস করেন। বিএ পাস করার পর এমএ ক্লাসে প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন ইংরেজি ভাষায়।

পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে তাকে এক বন্ধু ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন যে, মুসলমান ছাত্ররা মেধাবী না হওয়ায় অঙ্ক নিয়ে পড়ে না। এই কথা শুনে এ কে ফজলুল হকের জেদ চাপে। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, অঙ্কশাস্ত্রেই পরীক্ষা দেবেন। এরপর মাত্র ছয় মাস অঙ্ক পড়তেই তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেন।

খেলাধুলার প্রতি ফজলুল হক খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি মোহামেডান ফুটবল ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি দাবা, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলা পছন্দ করতেন।

শেরেবাংলা ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫) ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরসহ (১৯৫৬-১৯৫৮) বিভিন্ন পদ অলঙ্কৃত করেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

শেরেবাংলার নাতি এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু বনানীস্থ তার (নাতির) বাসায় আজ এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন।

অপর দিকে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রোববার সকাল ৯টায় সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শেরেবাংলার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এরপর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শেরেবাংলার জীবন ও কর্ম বিষয়ে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

(154)