সব পক্ষেরই সমান গণতান্ত্রিক স্পেস থাকা দরকার: মজীনা


image_76571_0

রংপুর: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের বিষয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার অবস্থান সুস্পষ্ট দাবি করে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “মার্কিন সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই সব পক্ষের জন্যই সমান গণতান্ত্রিক স্পেস থাকা দরকার এবং শান্তিপূর্ণ ও যথাযথভাবে এর ব্যবহার করা উচিত।”শনিবার সকালে রংপুর মহানগরীর পর্যটন মোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় সফর শেষে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে স্বচ্ছ তদন্ত করার করার আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, “মার্কিন সরকার উদ্বিগ্ন। কয়েকদিন আগে আমাদের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।”

অভিন্ন নদীর নদীর পানি বন্টণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মজিনা বলেন, “এটি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। সম্মিলিতভাবে দুই দেশের এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।”

লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগস্থল হিসেবে খুব শিগগিরই ব্যবহৃত হতে শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ড্যান মজীনা আরো বলেন, “বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। বাংলাদেশে এখন চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ধান উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ একটি উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের প্রচুর সম্পদ রয়েছে যার সুষ্ঠু ব্যবহার হলেই দেশটি সত্যিকার অর্থেই সোনার বাংলায় পরিণত হবে।”

মজীনা বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে নদীভাঙন। এ কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া শিক্ষার হার, মান ও দক্ষতারও বড় অভাব রয়েছে।”

সুষ্ঠু যোগাযোগের অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেয়ার বিষয়টিও বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের জ্বালানি ও গ্যাসের অভাব রয়েছে। এসব বাস্তব সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। জ্বালানি ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করা গেলেই দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হবে। গ্যাসভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হবে”।

মজীনা বলেন, “এই অঞ্চলের একজন নারী তার হস্তশিল্প নিয়ে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ করছেন যিনি বিশ্বের ১৫০ জন আমন্ত্রিতদের মধ্যে একজন।”

গত এক সপ্তাহে পাবনার ওষুধ শিল্প, বগুড়ায় প্রতিবন্ধীদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ, গাইবান্ধার পুষ্টি গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনসহ বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেছেন মজীনা।সংবাদ সম্মেলনে ইউএসএইড-এর বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জেনিনা জেরু জেলেক্সি নারীর উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন।

(134)