সাত খুনে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয়


mayaনারায়ণগঞ্জের সাত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন তিনি।

 বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে রাখতে চাই, এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিবারের কোনো সদস্যের কখনই কোনো রকম যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক লেনদেন বা সম্পর্ক ছিল না।”
একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা যাতে আড়াল হতে না পারে, সেদিকেও সবার সজাগ দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যায় গভীর শোক প্রকাশ এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়ার জামাতা ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদসহ তিন কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে র‌্যাব থেকে প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনী থেকে অকালীন ও বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় মায়ার ছেলে দীপু চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ উঠেছে।র‌্যাব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মায়া ওই বিবৃতি দেন। এতে তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা তাকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে এবং তার পরিবারের সম্মানহানি করেছে।”
তিনি জানান, এ ঘটনা নিয়ে গঠিত বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ তদন্ত কাজ যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, সেজন্য তিনি কোনো রকম মন্তব্য করা থেকে বিরত আছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন তদন্তে নিশ্চয়ই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।নিহতদের পরিবারের মত তিনিও প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরদিন শীতলক্ষা নদীতে অপহৃতদের লাশ ভেসে ওঠে, যাদের অপহরণের পরপরই হত্যা করা হয়েছিল বলে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১১ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

(139)