সিরাজগঞ্জে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ৩০


train_accidentসিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে ‘লালমনি’ এবং ‘একতা’ আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। এছাড়া চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।রোববার ভোর ৩টার দিকে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী রেলপথের উল্লাপাড়া রেল স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 নিহতরা হলেন-নাটোরের হরিশপুরের আলতাফ হোসেন (৩৫) ও লালমনিরহাটের একশুন্যপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মজিবুর রহমান (৫০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, র‌্যাব, রেলপুলিশ, রেল নিরাপত্তা বাহিনী এবং উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনার পর থেকে ঢাকার সাথে সিরাজগঞ্জ হয়ে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে স্টেশন মাস্টার, নিরাপত্তা পুলিশ, লাইনম্যান, গার্ড ও স্থানীয় রেলবিভাগের লোকজনের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন দমকল বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর লোকজন।
দুর্ঘটনার পর পরই জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এস.এমরান হোসেনসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলবিভাগ পাকশীর উর্দ্ধতন ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এ.জেড.এম. তাজুল হুদা ঘটনাস্থল থেকে জানান, লালমনিহাট থেকে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়ানো ছিল। একই সময়ে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্লাটফরম সংলগ্ন ১ নং রেললাইনে ঢুকে গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’টি ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
সংঘর্ষের সময় বিকট শব্দ ও ঝাঁকিতে যাত্রীরা লাফিয়ে নেমে গেলেও চারজন যাত্রী ট্রেনের নিচে আটকা পড়ে ঘটনাস্থলেই আলতাফ হোসেন ও মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়। বাকি দু’জনসহ মোট ছয়জনকে উদ্ধারের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে নাটোরের আশরাফুল ইসলামের পরিচয় জানা গেলেও অন্যদের পরিচয় মেলেনি।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ, শাহজাদপুর, পাবনা ও বেড়া ফায়ার সার্ভিসের তাদের চারটি টিম উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়ার পর দুইজনকে মৃত ও ১২জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার জন্য তিনি সিগন্যালম্যান, রেল বিভাগের নিরাপত্তা পুলিশ, স্টেশন মাস্টারসহ কর্তব্যরতদের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশীর বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, রিলিফ ট্রেন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।ওসি তাজুল হুদা জানান, লাইনচ্যুত  ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ৭টায় ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছে। ধারনা করা হচ্ছে লাইনম্যান না থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

(123)