স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী প্রয়োজন- সুরঞ্জিত


 

suronjitস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন অভিজ্ঞ পূর্ণ মন্ত্রী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আজ সোমবার দুপুরে চলমান রাজনীতি নিয়ে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধারী মন্ত্রণালয় দুইটি। একটি স্বরাষ্ট্র, আরেকটি পররাষ্ট্র। আর বাকি সব প্রক্সি মন্ত্রণালয়- রাষ্ট্রপতি, ভগ্নিপতি। তাই এই মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, নেতৃত্বশালী, ব্যক্তিত্বশালী ও আইন সম্বন্ধে ধারণা আছে এমন একজন অভিজ্ঞ পূর্ণমন্ত্রী প্রয়োজন।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, নারায়ণগঞ্জের ঘটনা তাই প্রমাণ করে। এই ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকতেই পারে। ঘটনার ৭ দিন পর আপনি অপরাধীর বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। কেন এর আগে চালানো হয়নি? সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ অভিযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাচ্ছে। আর তারা বসে বসে হিসাব করেন অভিযোগ নেবেন নাকি নেবেন না। এটা কি মগের মুল্লুক? এটা আইনের বরখেলাপ।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমি বলব, অল্প সময়ে এর সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে যদি শাস্তি না দেন সেটা আইনের বরখেলাপ হবে। এই অপরাধে যাদের প্রত্যাহার করেছেন এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টল প্রসিকিউশন হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকতে হবে। পুলিশ ফোর্সকে অবশ্যই কোথাও না কোথাও ইউনিফর্মে থাকতে হবে।

সুরঞ্জিত আরও বলেন, এই সরকারের অল্প কিছু দিনের যে অর্জন তা গুটি কয়েক দুর্বৃত্তের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এর দায় আওয়ামী লীগ নেবে না, এর দায় সরকার নেবে না, এর দায় প্রধানমন্ত্রীও নেবেন না। তিনি বলেন, কেউ একজন বললো দোষীরা দেশ ছেড়ে যায়নি। আল্লাহর রহমত, কিন্তু এই মাল তো আওয়ামী লীগের মাল না। নূর হোসেন প্রথমে জাতীয় পার্টি, তারপর বিএনপি, তারপর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ওর তো কোনো দল নাই, সব সময় সরকারি দল।

বিরোধী দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য নিজেদের সতর্ক থাকা উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রীর থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। তিনি চিহ্নিত করে বলছেন স্বামী হত্যাকারীর কথা। আমরাও তাঁর পাশে দাড়াবো।

তিনি বলেন, অনেক দিন পর বেগম খালেদা জিয়া বললেন, জিয়াউর রহমান-মঞ্জুর হত্যার খুনি এরশাদ। এত দিন আপনি ক্ষমতায় ছিলেন। আপনি এর বিচার করলেন না কেন? খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছিলাম সব হত্যার বিচার চাই। আজকে যখন আপনি বললেন ভালো কথা, ফৌজদারী মামলা করার এখনও সময় আছে। সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান দূর্জয়।

(133)